kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

অষ্টম শ্রেণি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আফরোজা বেগম, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ

সৃজনশীল প্রশ্ন

তৃতীয় অধ্যায়

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন

উদ্দীপক : মিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে একটি অতি পুরনো বই খুঁজে পায়। সে জানতে পারে এ দেশের একজন বহুভাষাবিদ পণ্ডিত এই গ্রন্থ লেখার কাল নির্ণয় করেন। প্রাচীন কাল থেকেই এ দেশের কবি-সাহিত্যিকরা সাহিত্যের বিকাশে যে অবদান রেখেছেন তা ভেবে মিতা অবাক হয়।

ক) কী প্রতিষ্ঠার ফলে সাংস্কৃতিক বিপ্লব সাধন হয়েছে?

খ) সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

গ) মিতার খুঁজে পাওয়া বইটি কোন সাহিত্যকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ‘প্রাচীন কাল থেকেই এ দেশের কবি-সাহিত্যিকরা সাহিত্যের বিকাশে বিস্ময়কর অবদান রেখেছে’—তুমি কি এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর :

ক) বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম বা প্রাইভেট চ্যানেল প্রতিষ্ঠার ফলে সাংস্কৃতিক বিপ্লব সাধন হয়েছে।

খ) বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন ও ইতিবাচক উন্নয়নের ফলে সমাজ ও সংস্কৃতির যে পরিবর্তন হয়, তাই হলো সাংস্কৃতিক উন্নয়ন।

মানুষের সৃষ্টিশীল সব কাজই তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বা ইতিবাচক পরিবর্তনই হচ্ছে উন্নয়ন। মানুষের ব্যবহার্য ও ভোগের সামগ্রী এবং চিন্তা-চেতনায় যখন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, তখন তাকে বলা হয় মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন হওয়ায় গোটা বিশ্ব একটি বিশ্বগ্রামে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর ফলে সহজেই এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে চলে এসেছে। প্রযুক্তির এই পরিবর্তন সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটায়।

গ) মিতার খুঁজে পাওয়া বইটি যে সাহিত্যকে ইঙ্গিত করে তা হচ্ছে চর্যাপদ।

চর্যাপদ হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম নেপালের রাজদরবার থেকে এগুলো আবিষ্কার করেন। চর্যাপদের বিখ্যাত রচয়িতাদের মধ্যে ছিলেন লুইপা, কাহ্নপা প্রমুখ।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মিতা ঢাকা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে একটি অতি পুরনো বই খুঁজে পায়। সে জানতে পারে এ দেশের একজন ভাষাবিদ পণ্ডিত এই গ্রন্থ লেখার কাল নির্ণয় করেন। এখানে যে বইটি মিতা খুঁজে পায়, তা হচ্ছে চর্যাপদ। বাঙালির প্রথম যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় তা চর্যাপদ নামে পরিচিত। যে ভাষাবিদ এর কাল নির্ণয় করেন তিনি হচ্ছেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি গবেষণা করে জানান প্রায় দেড় হাজার বছর আগে থেকে (৬৫০ খ্রিস্টাব্দ) বৌদ্ধ সাধকরা এগুলো লিখেছেন। এখন হয়তো আমাদের পক্ষে এগুলো বোঝা কঠিন হবে। তা ছাড়া শাব্দিক অর্থ ছাড়াও এগুলোর ভাবার্থও বুঝতে হয়।

ঘ) ‘প্রাচীন কাল থেকেই এ দেশের কবি-সাহিত্যিকরা সাহিত্যের বিকাশে বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন’—আমি এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত, কেননা চর্যাপদ থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ দেশের কবি-সাহিত্যিকদের অবদান অনেক।

বাঙালি সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অধিকারী একটি জাতি। বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে এ দেশের সাহিত্য। এ দেশের কবি-সাহিত্যিকরা প্রাচীন কাল থেকে আজও বাঙালি সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করছে। তাদের সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় এসব সাহিত্যিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মিতা লাইব্রেরিতে একটি অতি পুরনো বই খুঁজে পায়, যার কাল নির্ণয় করেন একজন বহুভাষাবিদ পণ্ডিত। এখানে মিতা যে বইটি খুঁজে পায় তা চর্যাপদ এবং এর কাল নির্ণয় করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। মিতা এটা ভেবে অবাক হয় যে প্রাচীন কাল থেকেই এ দেশের কবি-সাহিত্যিকরা সাহিত্যের বিকাশে অনেক অবদান রেখেছেন। কেননা চর্যাপদ থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে তাদের অবদান বিস্ময়কর।

বাঙালির প্রথম যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় তা চর্যাপদ নামে পরিচিত। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে এগুলো আবিষ্কার করেন। সুলতানি আমলে শ্রীচৈতন্যের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে বাংলায় কীর্তন গান রচনার জোয়ার আসে। শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার কাহিনি নিয়ে এসব আবেগপূর্ণ গান বৈষ্ণব পদাবলি নামে পরিচিত ছিল। দেশীয় দেব-দেবীকে নিয়ে একসময় রচিত হয়েছে মঙ্গলকাব্য। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে সেকালের বাংলার সমাজচিত্র পাওয়া যায়। পারস্য থেকে পাওয়া কল্পকাহিনি এবং রোমান্টিক আখ্যান নিয়ে রচিত হতো পুঁথি সাহিত্য। আলাওল রচিত পদ্মাবতী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত। উনিশ শতকে আমাদের দেশে বাংলা গদ্যের সূচনা হয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিত গড়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র। বাংলা সাহিত্যের বিকাশে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত এভাবেই কবি-সাহিত্যিকরা যে অবদান রেখেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

মন্তব্য