kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

অষ্টম শ্রেণি

বাংলা

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলা

সৃজনশীল প্রশ্ন

আমাদের লোকশিল্প

প্রশ্ন : ঈদে জহির সাহেব তাঁর মেয়ে নওশিনের জন্য নারায়ণগঞ্জের নোয়াপাড়ায় তৈরি একটি শাড়ি কিনে নেন। কিন্তু শাড়িটি ভারতীয় না হওয়ায় সে খুবই মর্মাহত হয়। জহির সাহেব দেশীয় সম্পদ সংরক্ষণ ও প্রসারের কথা বুঝিয়ে বললে নওশিন নিজের ভুল বুঝতে পারে। সে ঈদের দিনে আনন্দের সঙ্গে শাড়িটি পরিধান করলে তার বান্ধবীরা শাড়িটির প্রশংসা করে।

ক) কোন জেলার কাঠের নৌকা বিখ্যাত?

উত্তর : বরিশাল জেলায় কাঠের নৌকা বিখ্যাত।

খ) ‘নকশা, রং ও বুনন কৌশল সবই তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী হয়’—কোনটি সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ‘নকশা, রং ও বুনন কৌশল সবই তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী হয়’—কথাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের আদিবাসীদের তৈরি বস্ত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।

‘আমাদের লোকশিল্প’ রচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান, রামগড় এলাকার চাকমা, কুকি ও মুরং এবং সিলেটের মাছিমপুর অঞ্চলের মণিপুরি মেয়েদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এরা নিজেদের ও পুরুষদের পরিধেয় বস্ত্র বুনে থাকে। তাদের বোনা কাপড় সাধারণত মোটা ও টেকসই হয়। সেই কাপড়ের নকশা, রং ও বুনন কৌশল সবই তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী হয়।

গ) উদ্দীপকে ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধের যে শিল্পটির পরিচয় ফুটে উঠেছে, তার বর্ণনা দাও।

উত্তর : উদ্দীপকে ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধের যে শিল্পটির পরিচয় ফুটে উঠেছে তা হলো—জামদানি শাড়ি।

‘আমাদের লোকশিল্প’ রচনায় বলা হয়েছে—নারায়ণগঞ্জ জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জামদানি কারিগরদের বসবাস। শতাব্দীকাল ধরে এ তাঁতশিল্প বিস্তারলাভ করেছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এ এলাকায়। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর পানির বাষ্প থেকে যে আর্দ্রতার সৃষ্টি হয়, তা জামদানি বোনার জন্য শুধু উপযোগীই নয়, বরং এক অপরিহার্য বস্তু বলা চলে। ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং পরিস্থিতির জন্য শুধু অতীতের তাঁতিদের তাঁত শিল্পই নয়, বর্তমানে বড় বড় কাপড়ের কারখানাও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। মসলিন যারা বুনত, তাদের বংশধররা যুগ যুগ ধরে এ শিল্পধারা বহন করে আসছে বলে জামদানি শাড়ি আমরা আজও দেখতে পাই। বর্তমান যুগে, জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে শুধু পরিচিতই নয়, গর্বের বস্তু।

উদ্দীপকের নওশিনের বাবার কেনা দেশীয় শাড়িটি প্রথমে তার পছন্দ না হলেও বাবা কেনার কারণ বুঝিয়ে বললে সে শাড়িটি পরে বেড়াতে যায়। আর সবাই শাড়িটির প্রশংসা করে। নওশিনের পরা শাড়িটি ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধে জামদানি শাড়িশিল্পের পরিচয় তুলে ধরেছে।

ঘ) উদ্দীপকের জহির সাহেবের মানসিকতা ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধের লেখকের মূল বক্তব্যকে সমর্থন করে’ —সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্য— ‘লোকশিল্প সম্পর্কে শিক্ষার্থীরাও শ্রদ্ধাশীল হয়ে তা সংরক্ষণে তৎপর হবে’ উদ্দীপকের জহির সাহেবের মানসিকতা লেখকের এই ভাবকে সমর্থন করে।

‘আমাদের লোকশিল্প’ রচনায় লেখক বাংলার লোকশিল্প ও লোক ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বিলুপ্ত লোকশিল্প মসলিন, লুপ্তপ্রায় নকশিকাঁথা ছাড়াও কুমারদের তৈরি মাটির জিনিসপত্র, পিতলের বাসনকোসন, বিভিন্ন এলাকার তাঁতশিল্প, কুমিল্লার খাদি কাপড়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের মণিপুরিদের নিজেদের তৈরি কাপড়সহ নানা শৌখিন লোকশিল্প, সিলেটের শীতল পাটি, খুলনার মাদুর, বরিশালের কাঠের নৌকা, প্রতীকধর্মী কাপড়ের পুতুলের কথা বলেছেন। এসব উপকরণ আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও জীবনের যেমন প্রতিনিধিত্ব করে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রাও আনয়ন করে।

উদ্দীপকের জহির সাহেবের দেওয়া দেশীয় শাড়িটি তার মেয়ের পছন্দ না হলে তিনি তা কেনার কারণ মেয়েকে বুঝিয়ে বলেন।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধের লেখক দেশীয় লোকশিল্পের যে সংরক্ষণ ও প্রসার চেয়েছেন তা উদ্দীপকের জহির সাহেবেরও চাওয়া। এ ক্ষেত্রে উভয়ের বক্তব্য এক ও অভিন্ন।

মন্তব্য