kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

জানা-অজানা

জিকা ভাইরাস

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ‘জিকা ভাইরাস’-এর কথা উল্লেখ আছে]

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জিকা ভাইরাস

জিকা ভাইরাস (Zika virus) হচ্ছে আবরণযুক্ত একসূত্রক RNA ভাইরাস। উগান্ডার জিকা গ্রামের নামানুসারে এর নাম রাখা হয়। স্থানীয় ভাষায় জিকা মানে বাড়ন্ত। সেখানেই ১৯৪৭ সালে বানরের দেহে সর্বপ্রথম এ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

মূলত দুই ধরনের এডিস মশা এই ভাইরাস ছড়ায়। গ্রীষ্মমণ্ডল ও এর নিকটবর্তী অঞ্চলে Aedes aegypti মশা এ ভাইরাস ছড়ায়। শীতপ্রধান অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়ায় Aedes albopictus মশা।

এই ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করে তার নাম জিকা জ্বর। এর সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বর, পীত জ্বর প্রভৃতির অনেক মিল আছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, হালকা মাথা ব্যথা, অবসাদগ্রস্ততা, কনজাংটিভাইটিস, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা, শরীরে লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। গর্ভবতী নারীরা আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যেটি মাইক্রোসেফালি (Microcephaly) নামে পরিচিত। মাইক্রোসেফালি এমন একটি অবস্থা, যেখানে বাচ্চার মাথা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট হয়।

এই ভাইরাসের এখনো কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ উদ্ভাবিত হয়নি। পর্যাপ্ত বিশ্রামই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত। সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার প্রথম এক সপ্তাহ রোগীর রক্তে এ ভাইরাস থাকতে পারে। তাই এ সময় রোগীকে যেন মশা না কামড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। কারণ মশার মাধ্যমে এ ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আশপাশের সুস্থ ব্যক্তিদের শরীরে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার প্রভৃতিতে জমে থাকা পানিতে জন্মায়। তাই সেগুলোতে যেন পানি না জমে থাকে সে ব্যবস্থাও নিতে হবে। আশার কথা হলো—এ রোগে মৃত্যুর হার নেই বললেই চলে।

♦ ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য