kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

এত ধর্ষণের ঘটনা কেন

দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিন

১১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খবরটি প্রকাশিত হয়েছে গতকালের কালের কণ্ঠে। মাত্র কয়েক লাইনের ছোট খবরটি যে কী ভয়াবহ, সমাজ যে কোন অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট করেছে। শেরপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একটি উদ্বেগজনক খবর উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেরপুরে গত পাঁচ মাসে ৫৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ করা হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের। বাদ যায়নি প্রতিবন্ধীরাও। খবরের বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, ৫৫টি ঘটনার মধ্যে ৩৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন অন্তঃসত্ত্বা। গত ১১ মে যে দুই শিশুর পরীক্ষা হয়েছে তাদের বয়স ছয় থেকে সাত বছর। ধর্ষিতাদের ডাক্তারি পরীক্ষার নিবন্ধন থেকেই এ খবরের সত্যতা মিলেছে। শেরপুরের একজন চিকিৎসক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এক মাসে এত ধর্ষণের ঘটনার পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজেই বিব্রত। বিব্রত শেরপুরের সুধীসমাজের প্রতিনিধিরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে। সবাই দাবি করেছে দ্রুত বিচার। সেখানে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে। জেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত সভায় পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ধর্ষণের বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। শেরপুরে যত ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ সব অভিযুক্তকে ধরে আইনের কাছে সোপর্দ করেছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়াতে পুলিশ নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

শুধু শেরপুর নয়, সারা দেশেই ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি সংস্থা ‘শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারা দেশে ২৩৩টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৩২ জন মেয়েশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। দুই শিশু ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে। সাত শিশুকে ধর্ষণের পর এবং একজনকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ওই বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ২০১৮ সালে সারা দেশে মোট ৩৫৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ওই বছর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২২ শিশুকে। ৫৩ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

এসব অশুভ খবর আমাদের পীড়িত করে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করতেই হবে। অন্যথায় যে অন্ধকার নেমে আসবে সমাজে, তা দূর করা একসময় কঠিন হয়ে যাবে।

মন্তব্য