kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

আবার আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

অভিযুক্তদের কঠিন শাস্তি হোক

৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে হত্যার ঘটনার রেশ কাটেনি। এরই মধ্যে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ঘটেছে আরেক মর্মন্তুদ ঘটনা। স্বামীর সংসারের লোকজনের চাহিদামতো যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূ শিরিনা আক্তারকে ঘরের দরজা বন্ধ করে স্বামী, শাশুড়ি ও দেবর মিলে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে এক আত্মীয় তাঁকে উদ্ধার করলেও শিরিনাকে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এক হোমিওপ্যাথ চিকিৎসককে ডেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। শিরিনার বাবা খবর পেয়ে গত শুক্রবার তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার রাতে থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ গৃহবধূর শাশুড়ি, দেবর ও হোমিও চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমাদের সমাজ যে কোন অন্ধকার যুগে রয়েছে, শিরিনাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু তার পরও যৌতুক দেওয়া হচ্ছে। মেয়ের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে অনেক অভিভাবক যৌতুক দিচ্ছেন। যৌতুক দিতে গিয়ে অনেক পরিবারই নিজেদের সর্বস্ব বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। তার পরও সমাজের এক শ্রেণির মানুষের লোভের যেন শেষ নেই। শিরিনার বাবাও তাঁর মেয়েকে যথাসাধ্য যৌতুক দিয়েছিলেন। বিয়ের সময় নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও তৈজসপত্র নিয়েও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মন রক্ষা করতে পারেননি তিনি। অভিযোগ রয়েছে আরো টাকা ও জিনিসপত্র দেওয়ার জন্য মেয়েকে মারধর করত তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনার দিন ইফতারসামগ্রী নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গেলে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। এর পর থেকেই মেয়ের কোনো খবর পাচ্ছিলেন না তিনি। একপর্যায়ে মেয়ের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। থানায় মামলা হয়েছে। শিরিনাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বামী, শাশুড়ি ও দেবর যে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট হয়েছে। 

সমাজে এ ধরনের ঘটনা যে ঘটছে, তার অন্যতম কারণ যে শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়নি, এ কথা অনস্বীকার্য। যৌতুকের কারণে গৃহবধূর শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তিই কাম্য। আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিচারের জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এ ধরনের সব ঘটনার বিচার দ্রুত করা সম্ভব হলে সমাজ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকেও মুক্ত হবে।

মন্তব্য