kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক

৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরকীয়া সম্পর্কের অজুহাতে নোয়াখালীর সুধারামে এক নারী ও এক পুরুষ শ্রমিককে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার সকালে। ওই দিনই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে জেনে সুধারাম মডেল থানার ওসি গত বুধবার সন্ধ্যায় নির্যাতিত নারী এবং নির্যাতনকারী ব্যক্তির স্ত্রী ও মাকে থানায় ডেকে নেন। রাতে মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত নারী। এজাহারে বলা হয়েছে, নোয়াখালী সদর উপজেলার আণ্ডারচর ইউনিয়নের বুদ্ধিনগর এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক জাফর আহমেদ এবং আরো সাতজন তাঁদের ওপর নির্যাতন চালান। জানা গেছে, মামলা দায়েরকারী নারী বুদ্ধিনগর এলাকায় থেকে একটি ইটভাটায় কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে তাঁর অনেক দিন যোগাযোগ নেই। মা ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি। নির্যাতিত পুরুষ শ্রমিক তাঁর সহকর্মী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিও ছড়ায় তাতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে, পাশে এক নারীকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন অভিযুক্ত জাফর। একসময় তিনি তাঁর ওড়না টেনে প্রায় খুলে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর বেঁধে রাখা ব্যক্তিকেও লাঠিপেটা করা হয়। কয়েক দফায় তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বেঁধে রাখা অবস্থায়ই তাঁকে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বিভিন্ন বয়সের ১০-১৫ জন লোক সেখানে উপস্থিত ছিল।

নির্যাতিত পুরুষ শ্রমিক নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর ভাষ্য, তিনি তাঁর নারী সহকর্মীর কাছে দুই হাজার টাকা পেতেন। সে টাকা নেওয়ার জন্য তাঁর বাড়ি গেলে স্থানীয় কিছু লোক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁর সহকর্মী ও তাঁর মা তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে যান কিন্তু ছাড়া হয়নি। তাঁকে মারধর করা হয়, ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। তাঁর সহকর্মীকেও মারধর করা হয়।

ঘটনার পরই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গাঢাকা দেন। ওসি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বুদ্ধিনগর থেকেই প্রধান আসামি জাফর আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রধান আসামির গ্রেপ্তার হওয়া সুলক্ষণ। এবার সুষ্ঠু তদন্ত দরকার। দেশে ছুতানাতায় নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। কারো ব্যক্তিগত বিষয়াদিতেও নাক গলানোর প্রবণতা এক শ্রেণির মানুষের রয়েছে। এর পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করা, লালসা চরিতার্থ করার বিষয় থাকে। অভিযোগ যা-ই থাকুক, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারোর নেই। এ ধরনের অভিযোগ তুলে এ দেশে নারীকে পাথর ছুড়ে হত্যার নজিরও রয়েছে। এমন ‘বিচার’-এর ক্ষেত্র ও সুযোগ থাকা উচিত নয়। আমরা চাই, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিচারের সম্মুখীন করুক।

 

মন্তব্য