kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

সরকারি সংস্থার বকেয়া সংস্কৃতি

পরিশোধের বিধি-বিধান মানা হোক

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি সংস্থাগুলোই সরকারের বকেয়া বিল পরিশোধ করে না। কী এক পরিস্থিতি! বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে প্রচুর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে আছে অনেক দিন ধরে। মন্ত্রণালয় তাদের কাছে ধরনা দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বাবদ ওই সংস্থাগুলোর কাছে পাওনা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বিমানের জন্য জ্বালানি তেল কেনার টাকাও পরিশোধ করা হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ। এ বাবদ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কিন্তু বিমান তেলের দাম পরিশোধ করতে গড়িমসি করছে। এসব বকেয়া বিলের ব্যাপারে কী করণীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ প্রসঙ্গ তোলেন প্রতিমন্ত্রী। বকেয়া বিলের ব্যাপারে অবহিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে আবার নোটিশ দিতে বলেন। ঈদের পরই সরকারি সংস্থাগুলোকে বিলের জন্য নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। জানা যায়, মঙ্গলবারের এনইসি সভায় সরকারের এক সংস্থার আরেক সংস্থার পাওনা টাকা পরিশোধ না করার বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এক মন্ত্রণালয় আরেক মন্ত্রণালয়কে পাওনা টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। তার পরও টাকা পরিশোধে গড়িমসি করে মন্ত্রণালয়গুলো। সভায় ভূমিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভূমি-কর পরিশোধ করে না মন্ত্রণালয়গুলো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে বকেয়া টাকা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান। এনবিআর কোন সংস্থার কাছে কত টাকা পাবে, তার একটা হিসাবও দেন তিনি।

পরিস্থিতি খুব সুখকর নয়, এটা বুঝতে গবেষণার প্রয়োজন নেই। সেবাদান ও সেবামূল্য পরিশোধের বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণ সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সে ধারণা আরো পোক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর হতাশাজনক বক্তব্যের মাধ্যমে। খোদ সরকারের পাওনাই পরিশোধ করে না সরকারি সংস্থাগুলো। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিপর্যায়ের পাওনা পরিশোধে তারা কী করে, তা সহজেই অনুমেয়। শুধু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নয়, আরো কিছু সরকারি সংস্থা অন্য সরকারি সংস্থার কাছে টাকা পায়। কিন্তু পাওনা পরিশোধে সবাই গড়িমসি করে। এটা সুব্যবস্থাপনার লক্ষণ নয় মোটেও। বকেয়া পড়তেই পারে, সেটা পরিশোধের বিধি আছে। বিধি-বিধান মানতে অসুবিধা কোথায়? সুশাসনের নজির স্থাপনের জন্যই এ ব্যাপারে সময়নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

মন্তব্য