kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির আশঙ্কা

কার্বন নির্গমন কমাতে ব্যবস্থা নিন

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির আশঙ্কা

খবরটি ভয়াবহ, বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য। প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে গবেষকরা বলছেন, বর্তমান হারে কার্বন নির্গমন ঘটতে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে ৬২ থেকে ২৩৮ সেন্টিমিটার। গবেষকরা বলছেন, ২১০০ সাল লাগাদ তাপমাত্রা যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে, তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে শুধু গ্রিনল্যান্ডেই প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি বাড়লে অ্যান্টার্কটিকাও ব্যাপক হারে গলতে শুরু করবে। কার্বন নির্গমনে লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ধারণার চেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে পৃথিবীকে। বাদ যাবে না বাংলাদেশও। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বড় একটি অংশ সাগরের গর্ভে চলে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা যেতে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ হবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম।   

অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী ১৯৯০ এবং ২০০০ সালের মধ্যে ৫৬ উন্নয়নশীল দেশের বন্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে ওই দশকে দেশগুলোতে প্রায় এক লাখ মানুষ বন্যার কারণে মৃত্যুবরণ করেছে এবং প্রায় ৩২০ মিলিয়ন মানুষ পরিবেশ-উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে চীন ও বাংলাদেশ ভয়াবহ বিপদে পড়বে বলে নাসা এরই মধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে। আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বাংলাদেশ ভূখণ্ডের উপরিভাগের তাপমাত্রা যদি ক্রমবর্ধমান থাকে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার বাড়বে এবং এতে প্রায় ১৪ শতাংশ স্থলভূমি স্থায়ী ও অস্থায়ী জল-নিমজ্জনের শিকার হবে। এতে প্রায় ২০ শতাংশ বাসযোগ্য স্থলভূমি স্থায়ী ও অস্থায়ী জল-নিমজ্জনের শিকার হবে এবং ১৫ মিলিয়ন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত তালিকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম। ২০০৭ সালে ইউনেসকোর প্রতিবেদন মতে, সমুদ্রস্তরের ৪৫ সেন্টিমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ ডুবে যেতে পারে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৩০০ সালের মধ্যে ০.৭ থেকে ১.২ মিটার বেড়ে যাবে। পরিবেশবিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল নেচার কমিউনিকেশন্সে প্রকাশিত এই গবেষণায় আরো বলা হচ্ছে, কার্বন ডাই-অক্সাইডের উদিগরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনতে যদি দেরি হয়, তা হলে ২০২০ সালের পর থেকে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য ২০ সেন্টিমিটার করে পানির উচ্চতা বাড়বে। আগামী কয়েক দশকে কার্বন নির্গমন কমাতে পারলে এই পরিণতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

আমরা আশা করব, উন্নত বিশ্ব কার্বন নির্গমন কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে। জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা