kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

দেশি কাগজশিল্পের বিপন্ন দশা

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা হোক

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশি কাগজশিল্পের বিপন্ন দশা

দেশের বেশির ভাগ কাগজকলেই এখন বিশ্বমানের কাগজ উৎপাদিত হয়। এসব কাগজ শুধু অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনই মেটায় না, আন্তর্জাতিক বাজারেও বিক্রি হয়। মূলত মুদ্রণ ও মোড়কশিল্পে এসব কাগজ ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে, সরকারি দপ্তরে ও শিক্ষা বোর্ডের কাজে দেশি কাগজ ব্যবহৃত হয়। দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০৬টির বেশি কাগজকল রয়েছে। বেশির ভাগ কলেই বিশ্বমানের কাগজ উৎপাদিত হয়। সঠিক নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এসব কাগজের রপ্তানির বাজার আরো বাড়ানো যেত। কিন্তু সম্ভাবনা থাকার পরও কিছুসংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে দেশি কাগজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই অসাধু মহল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তোয়াক্কা করে না। কখনো রক্ষকরাই তাদের সহায়তা করে।

অবস্থা এমন হয়েছে যে চোরাই কাগজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেই দেশি কাগজের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থায় যে শুল্কসুবিধা দেওয়া হয়, তা কাগজ চোরাকারবারিদের পকেটস্থ হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্র রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের কাগজশিল্পে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ হুমকির মুখে পড়েছে। জানা যায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কাগজ ও কাগজ বোর্ড আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রি করা হয়। লেখার বা ছাপার কাগজ এবং বিশেষ করে পোশাক কারখানায় ব্যবহার্য টিস্যু কাগজ, ডুপ্লেক্স বোর্ড, নন-কার্বন রিকোয়ার্ড (এনসিআর) আর্ট কার্ড প্রভৃতি বন্ড সুবিধার আওতায় আনা হয় এবং বাজারে বিক্রি করা হয়। ফলে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাগজকলগুলোও বিবিধ সমস্যায় পড়ছে। দেশি কাগজকলের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ছয় লাখ টন। কিন্তু কম চাহিদা ও অসম প্রতিযোগিতার কারণে উৎপাদন ও বিপণন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ৫০টি কাগজকল এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে কাগজ ও কাগজজাতীয় পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে দুই কোটি ডলার বা ১৬৮ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ ১০-১৫টি দেশে এসব কাগজ রপ্তানি হয়েছে। সমাপ্তপ্রায় এ অর্থবছরে এসব পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশ। আমদানি-বিকল্প পণ্য হিসেবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দেশি কাগজশিল্প। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এতে সরাসরি ১৫ লাখ শ্রমিক জড়িত। পরোক্ষভাবে আরো ৬০ লাখ লোক জড়িত। অর্থাৎ কর্মসংস্থানেও দেশি কাগজশিল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

সম্ভাবনাময় কাগজশিল্প কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও অসাধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সমস্যায় পড়ছে। শুল্ক রেয়াত থাকায় বন্ড সুবিধায় আনা কাগজ কম দামে বিক্রি করা যায়। এ কারণে চোরাই কাগজের কদর বেশি। কিন্তু এটা উৎপাদনকারী ও বৈধ আমদানিকারকদের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আশা করি, দেশি কাগজশিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর স্বার্থে সরকার যথোচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা