kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

হাসপাতালে বৈকালিক সেবা

আইন ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে হবে

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। অব্যবস্থাপনার অভিযোগও প্রচুর। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয় সরকারি হাসপাতালগুলোর পেছনে। কিন্তু মানুষকে সেবার জন্য যেতে হয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। সেখানে খরচের যে বাহুল্য, দেশের বেশির ভাগ মানুষেরই তা সাধ্যের বাইরে। তার পরও অনেক ত্যাগ স্বীকার করে বহু মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হয়। স্বাস্থ্যসেবার এমন বেহাল দেখেই প্রধানমন্ত্রী সরকারি হাসপাতালগুলোতে বৈকালিক সেবা চালু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু দু-একটি হাসপাতালে সীমিত পরিসরে তা চালু করা হলেও বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালেই তা চালু হয়নি। অথচ এই বৈকালিক সেবা চালু করা গেলে বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগী সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণের সুযোগ পেত। জানা যায়, নীতিনির্ধারকরাও এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছেন। কিন্তু ভেতর থেকেই এক ধরনের আপত্তি ও কিছু বাস্তব অসুবিধার কারণে তা চালু করা যাচ্ছে না।

বর্তমান নিয়মে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণত দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হয়। বাস্তবে দেখা যায়, আড়াইটার আগেই অনেক চিকিৎসক হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান এবং বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করেন। সরকারি হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে, অথচ তার ব্যবহার খুবই কম। দুপুর ১টা-দেড়টার মধ্যেই পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তারও আগে টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার রোগী চোখের জল ফেলতে ফেলতে ফিরে যায়। রোগী ও তার স্বজনদের জন্য এর চেয়ে বড় বিড়ম্বনা আর কী হতে পারে? আর এটি রাষ্ট্রীয় অর্থের চূড়ান্ত ধরনের অপচয়ও বটে। এত বিশাল বিশাল স্থাপনা, বিপুল লোকবলের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা এবং কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতির ২০ শতাংশ ব্যবহারও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দুই বা তিন শিফটে রোগ পরীক্ষার সুযোগ থাকলে একই পরিমাণ যন্ত্রপাতি দিয়ে কয়েক গুণ রোগীকে সেবা দেওয়া যেত। একইভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দু-তিন শিফটে রোগী দেখলে একই স্থাপনা থেকে কয়েক গুণ রোগীকে সেবা দেওয়া যেত। উন্নত দেশগুলোর হাসপাতাল এভাবেই চলে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনে আইন করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে।

সময় এসেছে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার। প্রধানমন্ত্রী যে ইচ্ছা পোষণ করেছেন, সেটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, হাসপাতালগুলোতে বৈকালিক ও নৈশ সেবা চালু করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে।

মন্তব্য