kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন

ত্রুটি দূর করতে ব্যবস্থা নিন

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন

প্রতিবছর এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার পর বিষয়টি সামনে আসে। যাদের ফল খারাপ হয় বা কোনো বিষয়ে নম্বর কম পেয়েছে বলে সন্দেহ দেখা দেয়, তাদের ক্ষেত্রে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকে। ফল পুনর্মূল্যায়ন, পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি নামে পরিচিত এই ব্যবস্থাটি। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় বোর্ড যা করে থাকে, তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এটা ঠিক যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মনে করছেন, ফল পুনর্নিরীক্ষণের অর্থ নতুন করে খাতা দেখা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। ফল পুনর্নিরীক্ষণে সাধারণত চারটি দিক খেয়াল করা হয়। সব প্রশ্নের উত্তরে নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে তোলা হয়েছে কি না এবং নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কি না। এখানে উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয় না। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী কোনো প্রশ্নে নম্বর কম বা বেশি পাবে কি না, তা দেখা হয় না। তদুপরি দেখা যায়, নম্বর যোগ-বিয়োগের ভুলেই প্রতিবছর একেকটি পাবলিক পরীক্ষায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় খাতা দেখলে আবেদনকারীদের বেশির ভাগেরই ফল পরিবর্তন হতো। পরীক্ষকদেরও আরো কয়েক গুণ ভুল ধরা পড়ত।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষকদের অবহেলা ও অদক্ষতায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ ফল পাচ্ছে না। অনাকাঙ্ক্ষিত ফল বিপর্যয়ের শিকার হয়ে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু যাঁদের কারণে এই বিপর্যয়, দায়ী সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না বা হচ্ছে না। এতে অন্য পরীক্ষকরাও সতর্ক হচ্ছেন না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে যে তথ্য পাওয়া যচ্ছে, তা ভয়ংকর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বিষয়ের শিক্ষক হয়েও অন্য বিষয়ের পরীক্ষক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে। এসব শিক্ষক সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে পারছেন না। এ ছাড়া প্রধান পরীক্ষকও অনেক সময় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন না। ১০ শতাংশ খাতা তাঁর নিজেরই পুনরায় চেক করার কথা। কিন্তু তা না করেই খাতা জমা দিয়ে দেন অনেক প্রধান পরীক্ষক। ফল যা হওয়ার তা-ই ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদেরও দায়ী করা চলে। চলতি বছরও এসএসসি পরীক্ষার পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছে। তাদের অনেকেরই হয়তো পরীক্ষার ফল পরিবর্তন হবে। কিন্তু নতুন করে ফল পুনর্মূল্যায়নের আগের সময়টা একজন পরীক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের যে হতাশার ভেতর দিয়ে কাটে, শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কোনো পরীক্ষক শিক্ষক কি তা অনুধাবন করতে পারেন? যদি খাতা পুনর্মূল্যায়নের ত্রুটি দূর করে দায়ী পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনই হবে না।


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা