kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

বাজারে ছড়াচ্ছে জাল নোট

প্রতিরোধে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি বিপণিবিতানগুলো জমজমাট। আসন্ন ঈদে যে যার সাধ্যমতো নিজের বা প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটা করছে। প্রতিবছরই জাল টাকার কারবারিরা এই সময়টাকে বেছে নেয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, চলতি মাসেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার জাল নোট। এ ছাড়া গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে ধরা পড়েছে ৩৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের জাল নোট। গত ১০ মে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকায় জাল নোট তৈরির কারখানা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৬ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোট। ১৩ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরো কত জাল নোটের কারবারি এখনো অধরা রয়ে গেছে, তার হিসাব কে রাখে!

 

জাল নোট প্রতিরোধে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে। জাল নোট সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য জনসমাগম হয় এমন স্থানে ভিডিও প্রদর্শন, আসল নোটের নিরাপত্তা চিহ্নসমৃদ্ধ পোস্টার, লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এমন আয়োজন প্রতিবছরই চলে। সারা বছরও বিশেষ নজরদারি থাকে। অনেকে ধরাও পড়ে। কিন্তু জাল নোটের কারবার বন্ধ হয় না, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আইনের দুর্বলতা, মামলা নিরসনে দীর্ঘসূত্রতা, গ্রেপ্তার হওয়া কারবারিদের সহজেই জামিন পাওয়াসহ আরো কিছু কারণে জাল নোটের কারবার বেড়ে চলেছে। ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগের ১৫ বছরে মামলা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৮৫টির। গত চার বছরে আরো অনেক মামলা হয়েছে এবং বিচারের অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যাও ক্রমে বেড়ে চলেছে। গত বছরও ১৮৮টি মামলা হয়েছে এবং নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫০টি। এসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের জন্য ২০১৫ সালে একটি উপকমিটি গঠিত হয়েছিল। তারা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠালেও তার কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় না।

জাল নোট অর্থনীতির ক্ষতি করার পাশাপাশি বহু দরিদ্র মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে। যেকোনো মূল্যে তা প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা প্রদর্শন করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা