kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্বকাপের আগে বড় সাফল্য

প্রেরণা জোগাবে এই জয়

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বকাপের আগে বড় সাফল্য

দীর্ঘ ২১ বছর পর অনন্য এক ইতিহাস রচিত হলো ডাবলিনের মালাহাইড ক্রিকেট মাঠে। কঠিন ও রোমাঞ্চকর রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় এক জয়ে রচিত হলো অনন্য ইতিহাস। ১৯৯৮ সালের ১৭ মে ভারতের মাটিতে কেনিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল ওয়ানডেতে প্রথম জয়ের দেখা। ২১ বছর পর সেই একই দিনে ঘুচল কোনো টুর্নামেন্ট জয়ের বড় আক্ষেপ। অবসান হলো সব প্রতীক্ষার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার বাংলাদেশের পাশে লেখা হলো ‘চ্যাম্পিয়ন’। ঈদের আগেই যেন ঈদের আনন্দ পৌঁছে গেল দেশের ঘরে ঘরে। বাংলাদেশের এই জয় দেশের ক্রিকেটকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টেলিভিশনের সামনে বসা দেশের ক্রিকেট অনুরাগী লাখো কোটি দর্শকও অভিনন্দন জানিয়েছে ক্রিকেট দলকে।

আয়ারল্যান্ডকে সহজ দল হিসেবে বিবেচনা করলেও ত্রিদেশীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেই। তিন দলের একটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যাদের পেস আক্রমণ এখনো যেকোনো দলের ব্যাটিং লাইনকে সমীহ করে খেলতে বাধ্য করে। তার ওপর ছিল কন্ডিশন। সব বাধা সহজেই পেরিয়েছে বাংলাদেশ, এমনকি ফাইনালে প্রতিপক্ষের বোলিং কৌশলকেও পরাস্ত করেছে সহজে। ফাইনালের ম্যাচটিও কঠিন করে তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। টানা তিন ম্যাচ টসে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য টস ভাগ্য ভালো ছিল এদিন। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনারের মারমুখী ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরের ইঙ্গিত যেন পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরই বৃষ্টির বাগড়া। বৃষ্টির পর যখন খেলা শুরু হয়, ডাকওয়ার্থ-লুইসে (ডিএল) তখনই বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল বড় কিছুর পথে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাই বেছে নেয় নিরাপদ ব্যাটিংয়ের পথ। খেলা শুরুর পর বাকি ২৩ বলে ক্যারিবিয়ানরা তোলে ২১ রান। মোট ১৫২। ডিএল পদ্ধতিতে ২৪ ওভারে ২১০ রানের টার্গেট আসে বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি তখন কার্যত টি-টোয়েন্টি। সময়ের ডাক শুনেই দলকে বিস্ফোরক সূচনা এনে দেন সৌম্য। খেলেছেন ৬৬ রানের এক অসামান্য ইনিংস। কঠিন রান তাড়ায় ২৪ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে শেষের বৈতরণি পার করিয়েছেন মোসাদ্দেক। দল জিতেছে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি। মোসাদ্দেক হোসেন জিতেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচ সেরা পুরস্কার।

প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট জিতে দলের মনোবল এখন চাঙ্গা। যাচ্ছে বিশ্বকাপে অংশ নিতে। দলের এই জয় খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে। জয়ের আকাঙ্ক্ষা যে দলকে বিজয়ের স্বাদ এনে দিতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ত্রিদেশীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট জয়ী বাংলাদেশ দলকে আমাদের অভিনন্দন। বিশ্বকাপের জন্য শুভ কামনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা