kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ওয়াসার এমডির স্বীকারোক্তি

এবার সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করুন

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে, যিনি বলবেন যে ঢাকা ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ। চিকিৎসকরাও তা বিশ্বাস করেন না। তাঁরা রোগীকে পরামর্শ দেন পানি ফুটিয়ে পান করতে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছিল, ঢাকা ওয়াসার পানি মারাত্মকভাবে দূষিত। এর আগেও বিভিন্ন গবেষণাগারের পরীক্ষায় উঠে এসেছে ওয়াসার পানিতে প্রচুর পরিমাণে কলিফর্ম জীবাণু ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। তার পরও ঢাকা ওয়াসার এমডি সব কিছুকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ। তাঁর এই ঘোষণার পর অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। কেউ কেউ জারে করে ওয়াসার পানি নিয়ে ঢাকা ওয়াসার দপ্তরে এসেছে সেই পানিতে শরবত বানিয়ে এমডিকে খাওয়ানোর জন্য। এমডি অবশ্য সেই শরবত খাননি। এরই মধ্যে বিষয়টি বিবেচনায় নেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওয়াসার পানির অবস্থা জানতে তিনজনের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ করে। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনটিতে স্বাক্ষর করেন ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে থাকা ওয়াসার ১০টি অঞ্চলের ৫৯টি এলাকার পানি সবচেয়ে বেশি দূষিত। অর্থাৎ রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকার পানিই সবচেয়ে বেশি দূষিত। বাকি যে সামান্য এলাকা রয়েছে, সেখানকার পানি অপেক্ষাকৃত কম দূষিত। তাহলে ওয়াসার এমডি তখন এমন স্ববিরোধী বক্তব্য কেন দিয়েছিলেন?

ওয়াসা একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা। এর দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের সুপেয় পানি সরবরাহ করা। কিন্তু তাদেরই প্রতিবেদন বলছে, বেশির ভাগ এলাকার পানি অত্যধিক দূষিত। এই পানি পান করে প্রতিদিন বহু মানুষ নানা রকম পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। আর যারা মারা যাচ্ছে না তারাও কঠিন যন্ত্রণা ভোগ করছে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার কি উচিত নয়, তাদের ক্ষতি পূরণ করা? ঢাকা ওয়াসার জন্য প্রতিবছর সরকারের শত শত কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। প্রকল্পের নামে আরো শত শত কোটি টাকা যাচ্ছে। রাষ্ট্রের এত বিপুল খরচের ফলাফল কী? তার পরও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই কেন? ওয়াসার অধীনে থাকা ঢাকার খালগুলো নাগরিকদের জন্য বিষফোড়া হয়ে রয়েছে। ময়লা-আবর্জনা জমে এমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যে আশপাশে মানুষের বসবাস করা দায়।

আমরা চাই, দ্রুত সারা ঢাকায় সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। তার আগে প্রতিটি এলাকায় নিজস্ব যানে নিজ খরচে নাগরিকদের সুপেয় পানি সরবরাহ করা হোক। পাশাপাশি দূষিত পানির কারণে যারা অসুস্থ হবে তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হোক এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা