kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ধানের দাম পাচ্ছে না কৃষক

সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করুন

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধানের দাম পাচ্ছে না কৃষক

হাওরাঞ্চল থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মাঠের সোনালি ধান কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে বলা চলে। ফলন বাড়লেও বাজারে ধানের দাম কম। ধান বিক্রি করতে গিয়ে উৎপাদন খরচই পাচ্ছে না কৃষক। কোথাও কোথাও জনবলসংকটে ধান কাটা হচ্ছে না। চড়া মজুরিতেও কোথাও কোথাও কিষান মিলছে না বলে জানা গেছে। অঞ্চলভেদে এবার ধান চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে অর্ধেক দামও মিলছে না। ফলে হতাশ কৃষক। এরই মধ্যে ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীতে ধানের ন্যায্য দামের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।

ধানের দাম নিয়ে কৃষকের বিড়ম্বনার এই চিত্র নতুন নয়। আড়তদারদের সিন্ডিকেট, আড়তের বাইরে গিয়ে ধান বিক্রির সুযোগ না থাকা, মধ্যস্বত্বভোগী ও চালকল মালিকদের কারসাজির কারণে প্রতিবছর এই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় চাষিদের। এবার সরকার প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার ৪০ টাকা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু আড়তদাররা এই দরে ধান কিনছে না। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ভেজা ধান ও শুকনা ধানের মধ্যে প্রতি মণে ১০০ টাকার পার্থক্য। সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামের প্রায় অর্ধেক দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে ধান। এ সময়ে কৃষকের হাতে কোনো টাকা থাকে না। বাধ্য হয়েই কৃষককে ধান বিক্রি করতে হয়। অথচ মাস দুয়েক অপেক্ষা করলেই ভালো দাম পাওয়া যেত। কিন্তু পাওনাদারের পাওনা মেটানো, কিষানের মজুরি থেকে শুরু করে টাকার প্রয়োজন বেশি হওয়ায় ধান বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। এবার বিপদ আরো বেশি। গত ২৫ এপ্রিল থেকে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। আর এ সুযোগই নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। সরকারি পর্যায়ে ধান কেনা শুরু না হওয়ায় ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে কৃষকরা। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত চাষিদের তালিকাই তৈরি করেনি খাদ্য বিভাগ।

স্বাভাবিকভাবেই এখনই উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। ধান-চাল সংগ্রহের যে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করতে হবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল কিনতে হবে সরকারকে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এর অন্যথা হওয়ার কোনো উপায় নেই। কয়েক বছর ধরেই এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে ধানের দাম পাচ্ছে না কৃষক। এ অবস্থা চলতে থাকলে চাষি ধান চাষ করায় উৎসাহ হারাবে। অবিলম্বে তাই কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করতে হবে।

 

মন্তব্য