kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

গার্মেন্ট কারখানায় অস্থিরতা

বেতন-ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা করুন

১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবছরই ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসবে, তীব্র যানজটে লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাবে—এ যেন নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে। এখনো ঈদের বাকি ২২ দিনের মতো। এরই মধ্যে তেমন আলামত শুরু হয়ে গেছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে আগে চট্টগ্রামে বেতন-ভাতা পরিশোধ না করেই কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানার শ্রমিকরা এখন বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অফিসের সামনে ধরনা দিচ্ছে, বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছে। এরপর হয়তো ওরা রাস্তা অবরোধেরও চেষ্টা করবে।

আগের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রতিবছর কমবেশি একই চিত্র দেখা যায়। এমনকি ঈদের দিনে শ্রমিকদের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। এমনটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। গার্মেন্ট বা তৈরি পোশাক শিল্প এখন পর্যন্ত আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত। সে কারণে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও নানা রকম সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির দিক থেকেও তারা শীর্ষে রয়েছে। তার পরও শ্রমিকদের সামান্য বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে এমন গড়িমসি কেন? জানা যায়, ৯০ শতাংশ কারখানা নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করে। মাত্র ১০ শতাংশ কারখানায় এ ধরনের অনিয়ম রয়েছে। বছরের পর বছর এ ধরনের অনিয়ম করা কারখানাগুলো চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না?

গার্মেন্টশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বেশির ভাগই দরিদ্র নারী। ঈদের আগে সবার মতো তারাও চায় নিজের জন্য অথবা মা-বাবা, ভাই-বোন, সন্তান-সন্ততি কিংবা প্রিয়জনদের জন্য দুটি নতুন জামা কিনতে। সংসারের অতি প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটা করতে। একেকজনের বাড়ি দেশের একেক প্রান্তে। শেষ কর্মদিবসের পরই তারা দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে ওঠে। তাই শেষ কর্মদিবসে বেতন-ভাতা পরিশোধ করলে তারা কেনাকাটার কোনো সুযোগই পায় না। অথচ বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে সেই শ্রমিকটির হাতের দিকে। এ অবস্থায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হবেই। তারা রাস্তায় নেমে এলেও তাদের তখন দোষ দেওয়া যাবে না। মাঝখানে এ অবস্থার জন্য দায়ী হয় সরকার, বিপদে পড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর লাঠি চালাতে হয়। আর সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়ে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা।

আমরা চাই, চট্টগ্রামে যেসব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেসব কারখানার শ্রমিকদের ঈদ বোনাসসহ বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করা হোক। দেশের অন্যত্র প্রতিটি কারখানায় যেন ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে বোনাসসহ বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। যেসব কারখানা তা করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা সরকার ও বিজিএমইএর কার্যকর ভূমিকা চাই।

 

মন্তব্য