kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা

ভেজাল বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা

প্রতিদিন আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করছি তার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্যে বাজার ছেয়ে গেছে। হোটেল-রেস্টুরেন্টে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। মেয়াদোত্তীর্ণ ফল, খাদ্যসামগ্রী ও মাংস বিক্রি হচ্ছে সুপারশপে। এমনকি ক্ষেতে যে ফসল উৎপাদিত হচ্ছে তা-ও নিরাপদ নয়। সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর কীটনাশক। বাজারে যে আমদানি করা ফল পাওয়া যাচ্ছে, তাতেও রয়েছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। এমন অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নেও মাদকবিরোধী অভিযানের মতো ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে সরকার ও সরকারপ্রধানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই আহ্বানের নেপথ্যে একটি কারণ আছে। এবার রমজানের আগে বাজারের বিভিন্ন পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে বিএসটিআই ১৮ কম্পানির ৫২টি পণ্যে নির্ধারিত মান না পাওয়ার কথা জানায়। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনে একটি ভোক্তা অধিকার সংগঠন। তাদের রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে হাইকোর্ট এক আদেশে বিএসটিআইয়ের মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ১৮ কম্পানির ৪৬টি ব্র্যান্ডের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে অপসারণ করে উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বাজারে থাকা এসব পণ্য দ্রুত অপসারণ করে ধ্বংস করার পাশাপাশি মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আমাদের দেশে পণ্যে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য যেমন বিএসটিআই রয়েছে, তেমনি ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণও নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনও। গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অনুমোদিত হয়েছে নিরাপদ খাদ্য আইন। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সে বিষয়েও আদালত দৃষ্টি দিয়েছেন। আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বলেছেন, এই দুটি আইনের চেয়ে ভালো আইন নেই। আদালত বলেছেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ক্ষমতা দেওয়া আছে। একজন মহাপরিচালক চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। অথচ ক্ষমতাবানরা এসির মধ্যে নিশ্চুপ বসে থাকেন। ইচ্ছা নেই কিছু করার। হয়তো বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ আসে। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতকে নিশ্চিত করেছে যে ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বাজারে রয়ে গেছে। ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রশ্ন এখানেই। সব ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠান এত দিন কী করেছে? আদালতের এই আদেশের পর সংশ্লিষ্ট সবাই নিশ্চয় তৎপর হবে। আমরা আশা করি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে তারা নিশ্চয় পিছপা হবে না।

 

মন্তব্য