kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

সড়ক নিরাপত্তা আইন

ডাব্লিউএইচওর পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করুন

১১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুরোধে চলতি মাসের ৬ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ’। এবারের স্লোগান হচ্ছে ‘জীবন বাঁচান, আওয়াজ তুলুন’। এবার পঞ্চমবারের মতো বিশ্বজুড়ে সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ চলাকালে দেখা যাক বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তার অবস্থা কী। 

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল’ নামে কাগজে-কলমে একটি শক্তিশালী ফোরাম আছে। একাধিক মন্ত্রী-সচিব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই কাউন্সিলের সদস্য। ছয় মাস অন্তর কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা। সভায় যেসব সুপারিশ করা হবে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের বিভিন্ন সংস্থার। কিন্তু এসব সুপারিশ আদৌ বাস্তবায়িত হচ্ছে, এমন কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া গেলে সড়ক নিরাপত্তার সূচক এমন হতো না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট যেসব চিত্র প্রতিবছর তুলে ধরে, তাতে মনে হয় না সড়ক নিরাপত্তা দেখার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে ১৫ দশমিক ৩ জনের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। সংস্থাটি বলছে, মদ পান করে গাড়ি চালনা, গতি, হেলমেট, সিটবেল্ট ও শিশুদের জন্য আসন—এই পাঁচটি বিষয়ে ভালো কোনো আইন নেই বাংলাদেশে। যদিও জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একগুচ্ছ ধারাবাহিক জাতীয় সড়ক নিরাপত্তার কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সম্প্রতি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের চালক ও মালিকদের মনোভাবের পরিবর্তন না হলে কোনো কিছুই কোনো কাজে আসবে না। আবাসিক এলাকায় যানবাহনের গতি সীমিত রাখা থেকে শুরু করে পথচারীদের সাবধানতা অবলম্বনের বিষয়টিও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায় গতির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ডাব্লিউএইচও বলছে, গতি নিয়ন্ত্রণ ও মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।

বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতন করবে, এটুকু নিশ্চয় আশা করা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা