kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে

১০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণ, হত্যা প্রভৃতি নারী নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা ও ব্যাপ্তি কমছে না, বরং বাড়ছে। বিজ্ঞজনরা বলেন, কোনো একটি ঘটনার বিচার যদি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হতো, দায়ী ব্যক্তিদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতো তাহলে এ প্রবণতায় ভাটা পড়ত। কিন্তু তা হচ্ছে না বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে, মামলার প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর কলেজছাত্রী রুপাকে হত্যা করা হয়েছিল। এসংক্রান্ত হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় হয়েছে নিম্ন আদালতে। সে রায় অনুমোদনের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অর্থাৎ ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে; এখনো হাইকোর্টে তার ওপর কোনো শুনানি হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে এখন ২০১৪ সাল ও তার পরে পাঠানো ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে ৭১১টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় ছিল। সেসবের মধ্যে রুপা হত্যা মামলাও রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে হাইকোর্টে এ মামলার বিচার সম্পন্ন হতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির বিচারের জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করার এখতিয়ার প্রধান বিচারপতির রয়েছে। তিনি চাইলে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাইকোর্টে বিচার সম্পন্ন করার নজিরও রয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করা যেতে পারে।

রুপা হত্যা মামলায় গত বছর ১২ ফেব্রুয়ারি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সেই রায় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুসারে কোনো মামলায় নিম্ন আদালত কোনো আসামিকে ফাঁসির রায় দিলে তা হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে কার্যকর করতে হয়। এ জন্য নিম্ন আদালত থেকে রায়ের নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। রুপা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো বাসের চালক ও তিন সহকারী। একজন সুপারভাইজারকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রুপার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশও দেওয়া হয়।

প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতায় চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারই থেমে থাকে। সাধারণ মামলার ক্ষেত্রে কী ঘটে তা সহজেই অনুমেয়। এটা বিচারিক সংস্কৃতির জন্য শুভ কিছু নয়। এ অবস্থার অবসান জরুরি। দ্রুত বিচার এবং একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ঘটনায় অপরাধীরা সতর্ক হতে বাধ্য হবে, বিচারে জন-আস্থাও বাড়বে। আইন ও বিচারসংশ্লিষ্ট মহল এ নিরিখে দ্রুত তৎপর হবে—এটিই আমরা আশা করি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা