kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

রোজায় বেড়েছে পণ্যমূল্য

নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




রোজায় বেড়েছে পণ্যমূল্য

বরাবরের মতো এবারও রোজায় বাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী। সিটি করপোরেশনের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম কেউ মানেনি, বিশেষ করে মাংস বিক্রেতারা। গরুর মাংসের দামে গত কয়েক মাস থেকেই নৈরাজ্য চলছিল। তবু গত মাস পর্যন্ত গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। রোজার মাসে গরুর মাংসের দাম ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল সিটি করপোরেশন। বিক্রেতারা মানেনি এই দাম। রোজার প্রথম দিন ঢাকায় ৫৮০ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে গরুর মাংস। শুধু গরুর মাংস নয়, দেশি মুরগি ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। দেশি মুরগির কেজি ৫৫০ টাকা। ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। বেড়েছে সব ধরনের মাছের দামও। রোজার জরুরি পণ্য শসা ও কাঁচা মরিচের দামও বাড়তির দিকে। শাকসবজির দামও বেড়েছে। ধনেপাতা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। করলার কেজি ৮০ টাকা। বেগুনের দাম সর্বনিম্ন ৬০ টাকা।

কোনোভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। রোজার আগে একবার, রোজার শুরুতে আরেকবার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বরাবর অভিযোগের আঙুল তোলা হয়। একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কথাও সবার জানা। কিন্তু বছরের পর বছর চলে গেছে, এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলেও বাংলাদেশের বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায় না। একটি ছোট উদাহরণই দেওয়া যাক। এক মাস আগেও প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। এখন প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। ১০ শতাংশ বেড়েছে চিনির দাম। অথচ বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আগে যে চিনি প্রতি টন ২৯০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হতো, তা গত মার্চ থেকে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশের বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বেড়েছে মসুর, অ্যাংকর ও খেসারির ডালের দাম। অন্যবারের মতো এবারও পণ্যের দাম লিখে প্রকাশ্য স্থানে টাঙিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও এ নির্দেশনা মেনে চলা হচ্ছে। কিন্তু পণ্য বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যেই।

আমাদের দেশে পণ্য বিপণন প্রক্রিয়ায় একটি মধ্যস্বত্বভোগী সব সময় সক্রিয়। তাদের কারণেও অনেক সময় পণ্যমূল্য বেড়ে যায়। পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তার পরও পণ্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। উন্নত বিশ্বে যেকোনো উৎসবের আগে দাম কমানো হয়। আমাদের দেশেই শুধু সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বিপণন ব্যবস্থা আরো সক্রিয় করতে হবে। টিসিবির মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যেতে হবে ভোক্তাদের দোরগোড়ায়। তবেই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা