kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ব্যয়

পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নিন

৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষা সরকারি খাতে থাকবে নাকি বেসরকারি খাতে যাবে—এ নিয়ে একসময় তর্কের প্রয়োজন পড়ত না। সাধারণ মত এই ছিল যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য—এসব সরকারি খাতেই থাকা উচিত। মত এখন অনেক বদলেছে। শিক্ষার বেসরকারীকরণের পক্ষে ওকালতির লোক আগেও ছিল, তবে এখনকার মতো প্রবলসংখ্যক নয়। অন্য তিন মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গ এ দেশে অনেক আগেই কল্যাণ-ভাবনার বাইরে চলে গেছে। বাকি দুই অধিকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আশির দশকের শেষের দিকে ব্যক্তি খাতে যেতে শুরু করে; এখন প্রায় অর্ধেক বেসরকারি খাতে। ফলে দুই খাতেই ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। অথচ মান বাড়েনি আনুপাতিক হারে; বরং অভিযোগ শোনা যায়, মানে অবনতি ঘটছে দিন দিন।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় এখনো সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় মেটাতে অভিভাবকদের নাভিশ্বাস ওঠে। বেসরকারি পর্যায়ে অন্যান্য ধাপের শিক্ষার ব্যয়ও অনেক। অবস্থা এমন হয়েছে যে পড়া মুখস্থ রাখার চেয়ে ব্যয়ের হিসাব মুখস্থ রাখে শিক্ষার্থীরা; অভিভাবকরা তো রাখেনই। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় মাঝারি মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ১৯ গুণ বেশি ব্যয় করতে হয়। নামকরা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যয় আরো বেশি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মাসে ছয় হাজার টাকায় চলতে পারে; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে মাসে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। তার পরও মান বিচারে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে পিছিয়ে থাকতে হয় তাকে। শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয়েও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ (২০১৭ সালের) তথ্যানুযায়ী, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপিছু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় বছরে গড়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮১ হাজার ১৮২ টাকা।

শিক্ষার বেসরকারি সম্প্রসারণের কিছু কারণ রয়েছে। যেমন প্রতিবছর শিক্ষার্থী বাড়ছে, সে অনুপাতে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে না। শহরাঞ্চলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলে অনেকের মর্যাদা থাকে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ভর্তি না হয়ে অনেকে মর্যাদাবান হওয়ার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়; এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পছন্দ বড় একটি কারণ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাচাইহীন অনুমোদন দিয়ে সরকারপক্ষও শিক্ষার বেসরকারীকরণকে উৎসাহিত করতে চায়। এই ফাঁকে মুক্তকচ্ছ শিক্ষা বাণিজ্য করে যাচ্ছে একটি গোষ্ঠী।

এ দশা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে শিক্ষানীতি স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে; সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে; বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যয়ের সীমা বেঁধে দিতে হবে এবং মান বাড়ানোর ব্যবস্থাও করতে হবে; অভিভাবকদেরও ‘জাত্যভিমান’ ছাড়তে হবে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা ভাবনাচিন্তা করে নিদান দেবেন বলে আমরা আশা করি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা