kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

২৫শে বৈশাখ আজ

রবীন্দ্রচর্চার আরো প্রসার ঘটুক

৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৫শে বৈশাখ আজ

শুধু শিল্পে-সাহিত্যে নয়, রবীন্দ্রনাথ আমাদের অস্তিত্বজুড়ে। বাঙালির চিন্তায়, চেতনায়, মননে, এককথায় সমগ্র সত্তাজুড়ে তাঁর সদর্প অবস্থান। আজ ২৫শে বৈশাখ এই মহান কবির জন্মদিন। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করা হবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে আজ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজন চলবে কয়েক দিন ধরে। পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তাঁকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা করা হয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলোও রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান প্রচার করে যাচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বব্যাপী যেখানে বাঙালি সেখানেই উদ্যপিত হবে রবীন্দ্রজয়ন্তী, হয়তো পঞ্জিকা সংস্কারজনিত কারণে এক দিন আগে কিংবা এক দিন পরে। আর এভাবেই প্রাণের কবি পৌঁছে যাবেন প্রাণের আরো গভীরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

রবীন্দ্র সাহিত্যের বিশালতা ও গভীরতায় বাঙালি জাতি ঋদ্ধ হয়েছে। তাঁর আত্মপরিচয় শাণিত হয়েছে। সে কারণেই আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধেও রবীন্দ্রনাথ প্রেরণা হয়েছেন। বাঙালির জাতীয় জীবনে রবীন্দ্রনাথের এমন শক্তিশালী অবস্থান দেখেই পাকিস্তান শাসক ও শোষকরা রবীন্দ্রবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু যেখানে বাধা আসে সেখানেই থাকে বাধা ডিঙানোর চেষ্টা। তাই রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সহসাই গড়ে ওঠে ছায়ানট আন্দোলন। পহেলা বৈশাখ, ২৫শে বৈশাখ ও ২২শে শ্রাবণে রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোর জয়জয়কার শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক বাঙালির হৃদয়মানসে আরো স্থায়ী রূপ নিতে থাকে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শত অপপ্রচার তুচ্ছ করে অভিন্ন ঐতিহ্যের অসাম্প্রদায়িক পথ ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।

রবীন্দ্রনাথের জন্ম কলকাতায় হলেও তাঁর চিন্তাভাবনা ও সাহিত্যের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে পূর্ববাংলা বা বর্তমান বাংলাদেশ। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিদারি দেখভালের জন্য তিনি শিলাইদহ, শাহজাদপুর এবং সর্বশেষ পতিসরে তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ কাটিয়েছেন। তাঁর সাহিত্য রচনায় এসব অঞ্চলের প্রকৃতি, জীবন ও লোকসংস্কৃতির বিপুল প্রভাব রয়েছে। পদ্মা তাঁর রচনায় উঠে এসেছে নানা বিচিত্র রূপে। প্রথাগত জমিদারদের মতো না হয়ে তিনি সমাজসংস্কার ও মানুষের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। কৃষির আধুনিকায়নের জন্য তিনি নিজের ছেলেকে কৃষিশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। কলের লাঙল বা যান্ত্রিক কৃষি ও উন্নত বীজ প্রবর্তনের চেষ্টা করেছেন। দরিদ্র কৃষকদের বিনা সুদে ঋণ জোগাতে গ্রামীণ কৃষি ব্যাংকের প্রবর্তন করেছিলেন। সংস্কৃতির বিকাশেও নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কিংবা ‘সোনার বাংলা’ গড়তে হলে আমাদের অবশ্যই রবীন্দ্রমানসকে উপলব্ধি করতে হবে এবং তাকে এগিয়ে নিতে হবে। জাতীয় জীবনে মনন ও চর্চার পরিশুদ্ধ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আমরা অত্যন্ত খুশি, বাংলাদেশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে। কিন্তু এখনো রবীন্দ্রনাথের বহু স্মৃতি অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। জন্মজয়ন্তীতে আমাদের প্রত্যাশা, সেসব রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রবীন্দ্রচর্চার প্রসার ঘটাতে নেওয়া হবে নানামুখী উদ্যোগ।

মন্তব্য