kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

এসএসসি ও সমমানের ফল

সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে

৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গতকাল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ৮২.২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন। গত বছর ৭৭.৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল; জিপিএ ৫ পেয়েছিল এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার বেড়েছে ৪.৪৩ শতাংশ; যদিও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে পাঁচ হাজার ৩৫ জন। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার সারা দেশে দুই হাজার ৫৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে এক হাজার ৯টি। অন্যদিকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর দেশের ১০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ পরীক্ষায় গত বছর ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মেয়েদের পাসের হার বেড়েছে এবং জিপিএ ৫ও বেশি পেয়েছে তারা। এবার ছাত্রীদের পাসের হার ৮৩.২৮ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৮১.১৩ শতাংশ। এ ছাড়া ছাত্রদের তুলনায় জিপিএ ৫ বেশি পেয়েছে এক হাজার ৩৭৪ জন ছাত্রী। এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা ভালো করেছে তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরো ভালো ফল অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বছরের প্রথম দিন থেকে শিক্ষাপঞ্জি শুরু। শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারের নেওয়া নানা কর্মসূচি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এখন আমাদের নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষার মান। এ জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ ও মানসম্পন্ন শিক্ষক। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, আজকের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। দেশের সেই ভবিষ্যৎ নাগরিকদের গড়ে তোলার দায়িত্ব যাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের মান হতে হবে প্রশ্নাতীত। বরাবরের মতো এবারের ফলাফল পর্যালোচনায়ও দেখা যাচ্ছে বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। মেয়েরা ভালো ফল করছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দেশের কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান বৃদ্ধি করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত আবশ্যক। একই সঙ্গে দৃষ্টি দিতে হবে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে। শহরের সঙ্গে গ্রামের শিক্ষার্থীদের পার্থক্য কমিয়ে আনতে না পারলে শিক্ষার দৈন্য আরো প্রকট হয়ে উঠবে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা