kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

সংযমের মাস রমজান

সবার জীবন পরিশুদ্ধ ও পবিত্র হোক

৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংযমের মাস রমজান

বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র রমজান, মুসলমানদের সংযম সাধনার মাস। কুপ্রবৃত্তি দমন ও আত্মশুদ্ধির সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম এই ফরজ ইবাদত। পুণ্যময় রমজান মাস রহমত, বরকত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। বিশ্ব মুসলিমকে শিক্ষা দেয় সংযত-সুন্দর জীবন যাপনের। মুসলিম নর-নারীর কাছে রমজান মাস বহু কাঙ্ক্ষিত। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সংযম সাধনা করতে হয় এই মাসে। সেই সঙ্গে নিজেকে বিরত রাখতে হবে সব ধরনের মিথ্যা ও অন্যায় অপকর্ম থেকে। রমজান আমাদের সংযমী হওয়ার শিক্ষা দেয়। শুধু পানাহার থেকে দিনের বেলায় বিরত থাকাই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য নয়, পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি নিজের মুখ ও জিহ্বাকে সংযত রাখতে হবে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নয়, পুরো মাসের সবটুকু সময় সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমেই সিয়াম সাধনার প্রকৃত আত্মতৃপ্তি লাভ করা সম্ভব। মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আশায় মুসলিম জনগোষ্ঠী শ্রদ্ধা ও নির্মল ভালোবাসায় বরণ করে এই মাসকে। পবিত্র এই মাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে দুনিয়া ও পরকালের অশেষ কল্যাণ। মহান আল্লাহ এই মাসের প্রতিটি দিন ও মুহূর্তকে নির্ধারিত করে দিয়েছেন সংযম সাধনার জন্য। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ফরজ করেছেন। এর পাশাপাশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে জাগতিক সব বিষয়ে সংযত জীবনাচারের। নির্দেশনা রয়েছে সব ধরনের পাপ ও অন্যায় অপকর্ম থেকে দূরে থাকার। রমজান মাসে কথায় ও কাজে মিতাচারী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। রমজান মাসের এটিই শিক্ষা, এটিই বিধান।

এর পরও দেখা যায়, পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনার ব্যাপারে আমাদের সমাজে অনেকেই উদাসীন। রমজান মাস এলেই দেখা যায় বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই মাসে বেশি মুনাফার আশায় আগে থেকেই আটঘাট বেঁধে বসে থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি পবিত্র রমজানের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। রমজান মাসে সুবিধা বুঝে ভোগ্যপণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা ঘোরতর অন্যায়। অন্যদিকে সিয়াম সাধনার এই মাসে সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের অনেকেই অপচয় করে। এই মাসে দেখা যায় বিভিন্ন মার্কেটে আলোকসজ্জা করা হয়। এটিও এক ধরনের অপচয়। খাওয়াদাওয়ায় বেশি বেশি খরচ না করে পবিত্র এই মাসে মানবতার সেবায় ব্যয় করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয়। রমজানের তাৎপর্য আমাদের প্রত্যেকেরই গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। সিয়াম সাধনার শিক্ষা ও এর মাধ্যমে অর্জিত জীবনবোধ যদি জীবনাচরণে প্রতিফলিত হয়, তাহলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এক মাসের সংযম সাধনার ভেতর দিয়ে আমাদের প্রত্যেকের জীবন পরিশুদ্ধ হোক, পবিত্র ও পুণ্যস্নাত হোক। মহান আল্লাহ আমাদের দান করুন সেই তাওফিক, যাতে আমরা পবিত্র রমজানের শিক্ষা সঠিকভাবে উপলব্ধি ও অনুশীলন করতে পারি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা