kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

জাতির পিতার নামে জমি দখল

এই ঘৃণিত অপচেষ্টা রোধ করা হোক

৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ এখনো বিস্তর। সারা দেশেই রয়েছে এদের দৌরাত্ম্য। এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মানুষ কখনো ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে, কখনো গায়ের জোর খাটিয়ে এসব অপকর্ম করে থাকে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, জমি দখলের প্রয়োজনে এবার তারা জাতির পিতার নাম ভাঙাতেও পিছপা হয়নি। রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে ‘জাতির পিতা ফাউন্ডেশন’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখল করা হয়েছে বেশ কিছু সরকারি জমি। সেখানে কয়েকটি টিনশেড ঘর তুলে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আরেকটি টিনশেডে রয়েছে ক্লাবঘর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে নিয়মিত চলে জুয়া খেলা ও মাদক বেচাকেনা। সংগঠনটির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৫ সালে এই সংগঠনেরই আরেক সদস্য মিরপুরের বাউনিয়া মৌজায় সরকারি পাঁচ কাঠা জায়গা দখল করে জাতির পিতা ফাউন্ডেশনের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। গত বছর অন্য একজন সেই জমির দখল নিয়ে সাইনবোর্ড নামিয়ে দিয়েছেন। অথচ জাতির পিতার নাম ব্যবহার করে যত্রতত্র সংগঠন করে তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন কিছু করতে হলে আগেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে। তার পরও এই সংগঠনটি বছরের পর বছর জমি দখলসহ বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে কিভাবে?

সুযোগসন্ধানী মানুষের কোনো অভাব নেই। নিকট-অতীতে এ ধরনের ভুঁইফোড় সংগঠনেরও দৃষ্টিকটু বাড়বাড়ন্ত ছিল। এগুলো যেমন প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে গড়ে উঠেছিল, তেমনি অন্য অনেক নামেও ছিল। এমনকি ‘মুক্তিযোদ্ধা’ নাম ব্যবহার করেও এমন অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছিল, যেগুলোর না আছে নিবন্ধন, না আছে স্বীকৃতি। আর তাদের প্রধান কাজই ছিল চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা অন্যান্য উপায়ে স্বার্থসিদ্ধি। বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের চেষ্টায় সেগুলো এখন অনেক কমেছে, রয়েছেও অনেক।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তির দিশা দিয়েছিলেন। তিল তিল করে দেশকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর নাম শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়ে তিনি আছেন এবং থাকবেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে। তাঁর নাম ভাঙিয়ে জমি দখল বা জুয়া খেলার আড্ডা বানানোর মতো ঘৃণ্য কাজ আর কিছুই হতে পারে না। এ ধরনের অপচেষ্টা কোনোক্রমেই বরদাশত করা উচিত নয়। অবিলম্বে গোটা বিষয়টি তদন্ত করা হোক এবং যাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা