kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটছেই

শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে

৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারা। কিশোরী মেয়েটিকে পুড়িয়ে মারার পর সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তসহ সন্দেহভাজনদের অনেকেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনাটি কি সমাজে কোনো প্রভাব ফেলতে পেরেছে? প্রভাব ফেললে চাঁদপুরের দীপিকা আচার্য্য মনিকা কিংবা সাভারের আফরোজা আক্তার হাসিনাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ আসে কিভাবে? রংপুরের গৃহবধূ তন্নী আক্তারের শরীরে পেট্রল ঢেলে কিভাবে আগুন দেয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন? শুধু তা-ই নয়, শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টার পর বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হয়। যেমনটি ঘটেছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের গৃহবধূ দীপিকা আচার্য্য মনিকার ক্ষেত্রে। গত ৩০ এপ্রিল গভীর রাতে দীপিকার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছিল। রাতে তাঁকে ভর্তি করা হয় হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে নেওয়া হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এরপর আনা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দীপিকার স্বামী, ভাশুর ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে থাকা স্বামীর দাবি, কেরোসিনের চুলায় দুধ গরম করতে গিয়ে দীপিকার গায়ে আগুন লাগে। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দীপিকার যে বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে, তাতে তিনি আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। সাভারের আফরোজা আক্তার হাসিনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। রংপুরের মিঠাপুকুরের গৃহবধূ তন্নী আক্তারের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার এ খবরগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব ঘটনার নেপথ্যে দাম্পত্য কিংবা পারিবারিক কলহ। দীপিকার স্বামীর মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে বিবাদ লেগে থাকত বলে খবরে প্রকাশ। সাভারের আফরোজা আক্তার হাসিনার স্বামীও নেশাগ্রস্ত। নেশা করার প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাঁকে। যৌতুকের কারণে তন্নী আক্তারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এ কোন বর্বর সমাজে আমরা বাস করছি?

আসলে ঘটে যাওয়া ঘটনা সমাজে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না। শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে না পারলে সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ দূর করা যাবে না। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার ও দণ্ড নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করি আমরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা