kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

অ্যাকর্ডের পক্ষে দর-কষাকষি

গার্মেন্ট পণ্যের দাম বাড়াতে বাধা কোথায়

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ ইমেজ সৃষ্টি করেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কিন্তু ২০১৩ সালের একটি দুর্ঘটনা গার্মেন্টশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান শুধু নয়, কারখানার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্নের সম্মুখীন করে বাংলাদেশকে। অথচ আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকায় গতি এনেছে গার্মেন্টশিল্প। আমরা যদি নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি, সেখানেও গার্মেন্টশিল্পের অবদান খাটো করে দেখা যাবে না। এই শিল্পে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে গত চার দশকে।  রানা  প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনসসহ চারটি বড় বিপর্যয় শুধু যে কাটিয়ে উঠেছে তা নয়, অনেক দুর্যোগ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাত সমৃদ্ধি লাভ করছে। ১৯৯৫-৯৬ সালে পোশাক খাত কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ করার পর প্রথম বিপর্যয় আসে। সে সময় অনেকেই বলেছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের টিকে থাকা কষ্টকর হবে। দ্বিতীয় বিপর্যয় ছিল বাংলাদেশের পোশাক খাত শিশুশ্রমমুক্ত করা। এরই মধ্যে তারও যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা বিপর্যয়ের ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা মত প্রকাশ করেছিল।

রানা প্লাজা ধসের পর তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল কমপ্লায়েন্স। ক্রেতা বা বায়ারদের আদেশ অনুসারে অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আদেশানুসারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে প্রদান ও কারখানার নিরাপত্তা বিধান এবং উৎপাদিত পণ্যের নিরাপত্তার জন্য সম্মতি প্রদান করাই হচ্ছে কমপ্লায়েন্স। এর জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০১৩ সালের ১৫ মে ইউরোপভিত্তিক বৈশ্বিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড, বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠন মিলে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক চুক্তি করে। ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স তদারকি করার ফলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে। গার্মেন্টের পরিবেশ উন্নত হয়েছে। কিন্তু দামের ক্ষেত্রে অ্যাকর্ড বা অ্যালায়েন্স কোনো ভূমিকা রাখেনি। পণ্যের দাম একটু বাড়িয়ে দিলে যে তা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারত তা এসব সংগঠন দেখছে না। অ্যালায়েন্স এরই মধ্যে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিলেও অ্যাকর্ড এখানে থেকে যাওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।

দেশের গার্মেন্টশিল্প যেভাবে উঠে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই তদারকিতেও নিশ্চিতভাবে দক্ষতা অর্জন করবে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ দেওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।

মন্তব্য