kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

কলেজ অধিভুক্তির তিক্ত স্বাদ

সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ দরকার

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলেজ অধিভুক্তির তিক্ত স্বাদ

রাজধানীর সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। এসব কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর পর্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত সোমবার কিন্তু হয়নি। কেন হয়নি তার কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ক্যাম্পাস বা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট—কোথাও না। আবার ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় সাত মাস আগে, এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। কবে প্রকাশ করা হবে, তাও শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না।

২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজকে অধিভুক্ত করা হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে পরিচালনার ভার পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। সেশনজট দূর করা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে অধিভুক্ত করা হয়েছিল, তবে যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া। ফলে অধিভুক্তির দুই বছর পরও শিক্ষা কার্যক্রমে গতি নেই। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অনেক এগিয়ে গেছে। আগে এ কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল।

অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং ভোগান্তি বেড়েছে। বছর শেষে ঠিকমতো চূড়ান্ত পরীক্ষা হচ্ছে না, ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে, মানোন্নয়নের বিষয়ে অগ্রগতি নেই। ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা প্রকট। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১১টায় নীলক্ষেত মোড়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করে তারা।

শিক্ষার্থীদের পাঁচটি দাবি হলো—১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ ২. পরীক্ষায় গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশ ও খাতা পুনর্মূল্যায়ন ৩. কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন ৪. কলেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা ৫. সেশনজট নিরসনে জরুরি কর্মসূচি চালু করা। শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত থেকেই সমস্যার সমাধান চায়। কারণ অধিভুক্তি বাতিল করলে সমস্যা আরো বাড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।

শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু করতে ও শিক্ষার মান বাড়াতে অধিভুক্তি করা হয়েছিল। কিন্তু তথ্য আদান-প্রদানে জটিলতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বন্দ্ব, পরিকল্পনাহীনতা, প্রশ্নপত্র তৈরি ও খাতা মূল্যায়নে সমন্বয়হীনতা ইত্যাদি কারণে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে চলেছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সংগত। তবে ক্ষোভ যাতে আর না বাড়ে, তাদের ভবিষ্যৎ যাতে পরিচ্ছন্ন হয় সেই লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিছু ‘জটিলতা’ রয়েছে স্বীকার করে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শিক্ষার্থীদের। প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে বলে আমরা আশা করি।

মন্তব্য