kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

পুলিশের ভুল!

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। কিছু সদস্যের কারণে দেশের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক সময় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। আস্থার সংকটও দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ভুলের অনেক ঘটনা আলোচিত হয়েছে। কিন্তু পুলিশ আগের অবস্থা ও অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। কিংবা বেরিয়ে আসার কোনো চেষ্টাও করেনি। কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা রাখার কোনো কারণ কি আর খুঁজে পাওয়া যাবে? মাত্র কয়েকজন পুলিশ সদস্যের কারণে পুলিশ বিভাগকে আবার নতুন করে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজীবপুর থানা মোড়ের এক মোটরসাইকেল মেকানিকের দোকানে স্থানীয় এক গ্রামের মানুষ হামলা চালায়। এ সময় সেখানে সাদা পোশাকে এক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাধা দিলে তাঁকেও পেটানো হয়। পরে থানা থেকে পুলিশ গেলে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় দুটি মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওই ১৯ জনের একজনের নাম ছিল রফিক, যিনি মালয়েশিয়াপ্রবাসী। দুই মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি রাজীবপুর বাজারে এক ওষুধের দোকানে বসেছিলেন। পুলিশ হঠাৎই তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। নিরপরাধ রফিকুল ইসলামকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। রফিকুল ইসলাম বলেছেন, তিনি পুলিশকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাঁর কথা শোনেনি। এ বিষয়ে রাজীবপুর থানার ওসির ভাষ্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘আমার এক কনস্টেবলকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এ কারণে আটক ব্যক্তিদের দু-একটি ডাং দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন এখানেই, ওসির ভাষায় ‘ডাং’ দেওয়া অর্থাৎ অমানুষিকভাবে পেটানোর অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে? সন্দেহ হলে পুলিশ আটক করতেই পারে। বিচার করার জন্য দেশে আইন-আদালত আছে। আটককৃতদের পেটানোর অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে? যে মানুষটি এজাহারভুক্ত বা অভিযুক্ত নন, তাঁকে পেটানোর তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। পুলিশ অবশ্য ভুল স্বীকার করে তাঁকে ছেড়েও দিয়েছে। কিন্তু তাঁর যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। এই ক্ষতি পূরণ হবে কী করে?

অতীতেও এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থানার পুলিশ সদস্যরা যে কাজটি করেছে, তা জঘন্য অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এ ধরনের অপরাধকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে পুলিশ বিভাগের বদনাম ঘুচবে না।

 

মন্তব্য