kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ঢাকা ওয়াসার পানি

নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবস্থা নিন

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীবাসীর জন্য ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির মান নিয়ে প্রশ্ন অনেক পুরনো। সম্প্রতি টিআইবি এক গবেষণায় জানিয়েছে, ঢাকা ওয়াসার নিম্নমানের পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবায় রাজধানীর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সেবাগ্রহীতা অসন্তুষ্ট। একই সঙ্গে ওয়াসার অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সেবন করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে নগরবাসী। পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করতে প্রতিবছর ৩৩২ কোটি টাকার বেশি জ্বালানি ব্যয় হয়। টিআইবির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেবাগ্রহীতার ৫১.৫ শতাংশ সরবরাহকৃত পানি অপরিষ্কার এবং ৪১.৪ শতাংশ সরবরাহকৃত পানি দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিযোগ করেছে। সেবাগ্রহীতাদের মতে, তাদের পরিবারের ২৪.৬ শতাংশ সদস্য পানিবাহিত কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর সব কটি এলাকার পানি শতভাগ সুপেয় ও নিরাপদ বলে দাবি করে ওয়াসা বলছে, নিম্নমানের পানি ফোটাতে বছরে ৩৩২ কোটি টাকা খরচ হয়—টিআইবির এই তথ্য গবেষণালব্ধ নয়, সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর। এর আগে গত অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরাঞ্চলে পাইপলাইনে সরবরাহ করা ৮২ শতাংশ পানিতে ক্ষতিকারক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ওই প্রতিবেদনের পর উচ্চ আদালতে একটি রিটও হয়েছিল।

ওয়াসার পানি যে বিশুদ্ধ নয়, তা নগরবাসীর কাছে স্পষ্ট। রাজধানীর অনেক এলাকায়ই ওয়াসার পানিতে দেখা দিয়েছে দুর্গন্ধ। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, ওয়াসার ময়লা পানি ফুটিয়ে কিংবা পিউরিফায়ারের সাহায্যে শোধন করে পান করার পরও লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে। ওয়াসার কর্মকর্তাদের যে উদ্ধৃতি কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে, সেখানেও তাঁরা বিভিন্ন এলাকার পানিতে সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঢাকাবাসীকে ওয়াসার পানির ওপরই নির্ভর করতে হয়। খাবার পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করলেও গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে সরাসরি পাইপলাইনের পানিই ব্যবহার করা হয়। থালা-বাসন ধোয়া, রান্নার কাজেও পাইপলাইনের পানি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কাজেই এসবের ভেতর দিয়েও রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

রাজধানীর সব এলাকায় পাইপলাইনে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে হলে সরবরাহ লাইন নতুনভাবে করতে হবে। ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ হলেও কাজটি সম্পন্ন করা গেলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু দুর্নীতিমুক্তভাবে ওয়াসা সেই কাজটি কি সম্পন্ন করতে পারবে? ঢাকাবাসীর জন্য নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পানি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্য