kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

শ্রীলঙ্কায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




শ্রীলঙ্কায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

শ্রীলঙ্কার মানুষ আজ বাক্রুদ্ধ। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, সারা পৃথিবী স্তম্ভিত। কিভাবে সম্ভব এমন নিষ্ঠুরতা—বিবেকবোধসম্পন্ন কোনো মানুষই তা বুঝে উঠতে পারছে না। অথচ এটিই সত্য। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বর্বর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে। গত রবিবার সকালে ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাকালে তিনটি চার্চে এবং তিনটি পাঁচতারা হোটেলে প্রায় একই সময়ে এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটে। দুপুরে সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান চলাকালে আরো দুটি বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। জানা যায়, সব হামলাই ছিল আত্মঘাতী। এই আট হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯০। আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ ছাড়া কলম্বো বিমানবন্দর থেকে একটি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। আরো হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ৩৫ জন বিদেশি রয়েছে বলে জানা গেছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছে। আহত হয়েছেন জায়ানের বাবাও। তাঁরা সে সময় সাংগ্রাই লা হোটেলের খাবার কক্ষে নাশতা খেতে গিয়েছিলেন। কেউ এখনো এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। জানা যায়, শ্রীলঙ্কার পুলিশ সন্দেহভাজন ২৪ ব্যক্তিকে আটক করেছে। হয়তো খুব দ্রুতই জানা যাবে, কারা ছিল এই হামলার পেছনে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এরই মধ্যে নরপিশাচদের বোমায় আবারও আক্রান্ত হলো বিশ্বমানবতা। রক্তাক্ত হলো কলম্বোর মাটি। শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি পৃথিবীজুড়ে নেমে এলো শোকের ছায়া। একটিই প্রশ্ন আজ মানুষকে তাড়িত করছে, এর শেষ কোথায়? এভাবে যারা ধর্মের নামে, সাদা-কালো কিংবা অন্যান্য পার্থক্যের কথা বলে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, বিভেদ ছড়াচ্ছে, নিষ্ঠুরতার প্রতিযোগিতা করছে—তাদের নিবৃত্ত করার উপায় কী? সরল বিশ্বাসে যারা গির্জায় গিয়েছিল তারা কার কী ক্ষতি করেছিল? যেসব পর্যটক তিনটি হোটেলে উঠেছিল, তাদের দোষ কী ছিল? হতাহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। তাদের রক্ত ঝরিয়ে কিংবা জীবন নিয়ে সারা দুনিয়ার ঘৃণা কুড়ানো ছাড়া হত্যাকারীরা আর কী পেতে পারে? তার পরও উন্মাদ প্রকৃতির কিছু মানুষ এসব করেই যাবে। মানবতার স্বার্থে এদের রুখতেই হবে। প্রতিটি দেশের নিজস্ব উদ্যোগের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এদের প্রতিহত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের অনেক তাণ্ডব দেখেছে। সময়-সুযোগ বুঝে আবারও তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সজাগ থাকতে হবে। গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে হবে। সন্ত্রাসবাদবিরোধী আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে হবে। শ্রীলঙ্কার শোকাহত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সম্ভাব্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। হতাহতদের পরিবার-পরিজনদের হৃদয়ের অবস্থা আমরা বুঝতে পারছি। তাদের বেদনায় আমরাও বেদনার্ত।

মন্তব্য