kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়

ম্যালেরিয়া নির্মূলে জরুরি ব্যবস্থা নিন

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মশাবাহিত সংক্রামক রোগ ম্যালেরিয়ার প্রকোপ একসময় খুব বেশি ছিল দেশে। এখন তা কমে এলেও ঝুঁকি রয়েই গেছে। আগামী ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস। দিনটি সামনে রেখে এক মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা আশাব্যঞ্জক নয়। সেখানে জানানো হয়েছে, এখনো দেশে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৩টি জেলায় এর প্রাদুর্ভাব বেশি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকার জনগোষ্ঠীর মাঝে এ পর্যন্ত এক কোটি ছয় লাখ ৯০টি কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করা হয়েছে। গত বছর সর্বমোট ১০ হাজার ৫২৩ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে আর আক্রান্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০০৮ সালের তুলনায় ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা ৮৮ শতাংশ এবং  মৃত্যুর হার প্রায় ৯৫ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

২০২০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে সরকার বেশ কিছু পাইলট প্রগ্রাম হাতে নিয়েছে। দুই বছর ধরে হটস্পট চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। ২০১৩ সালে পার্বত্য এলাকার যে গ্রাম থেকে বেশি রোগী আসছে সে রকম ১৬টি গ্রাম চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সব গ্রামে এপিডেমিওলজিক্যাল ও এন্টামোলজিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। এপিডেমিওলজিক্যাল টিম ওই গ্রামগুলোতে গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ম্যালেরিয়া শনাক্ত করে সেখানেই চিকিৎসা দিচ্ছে। এন্টামোলজিক্যাল টিম প্রজনন স্থানগুলো ধ্বংস করেছে, পুকুরের পানি সরিয়ে নিয়েছে, লার্ভা—যেটা পরে মশায় রূপান্তরিত হয়, তা মেরে ফেলার জন্য লার্ভিসাইড ব্যবহার করেছে। এতে ওই সব গ্রামে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হার বেশ কমে এসেছে। তবে কর্মসূত্রে পার্বত্য এলাকায় বড়দের বনে কাঠ কাটতে ও  জুম চাষে যেতে হচ্ছে। সেখানে মশার কামড় আক্রান্ত হতে হচ্ছে তাদের।

জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশার সংখ্যা বৃদ্ধি এর একটা বড় কারণ। এখন শিশুদের আক্রান্তের হার ও মারাত্মক ম্যালেরিয়ার হার দুটিই কমে এসেছে। শিশু ম্যালেরিয়াবিষয়ক এমডিজি লক্ষ্যমাত্রাও বাংলাদেশ অর্জন করছে। এখন ম্যালেরিয়া শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ম্যালেরিয়া নির্মূলে সরকার সফল হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য