kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

চার নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং

বাকি নদীগুলোও সচল করতে হবে

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং

নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতি, জনজীবন, চাষাবাদ—প্রায় সবই নদীনির্ভর। তাই বলা হয়, নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। অথচ বহু নদী এরই মধ্যে মরে গেছে। বহু নদী মৃত্যুর পথে। ভূমিক্ষয়ের পাশাপাশি উজান থেকে আসা বিপুল পলি জমে প্রতিনিয়ত নদী ভরাট হচ্ছে। গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য গিয়ে পড়ছে নদীতে। সেই সঙ্গে আছে নদী দখল ও ভরাট। ফলে বর্ষার পানি নদী দিয়ে নামতে পারে না, বন্যায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। অন্য সময় নদীতে পানি থাকে না। নৌপরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। সেচকাজ ব্যাহত হয়। মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গিয়ে মরুকরণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই বাংলাদেশকে বাঁচাতে নদীগুলো নাব্য করার কোনো বিকল্প নেই। আশার কথা, বর্তমান সরকার একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি নদীতে খনন সম্পন্ন হয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, চার হাজার ৩৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি বড় নদী খননের মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবা নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন করা হবে।

নদীগুলোর নাব্যতা ফেরানোর ক্ষেত্রে অতীতের অবহেলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পাকিস্তান আমলে এখানে কোনো ড্রেজার ছিল না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকার চারটি ড্রেজার কিনেছিল, যেগুলো দিয়ে এত দিন ফেরি চলাচলের পথ সচল রাখা হয়েছে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি প্রকল্পের আওতায় গড়াই নদের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১০ সাল পর্যন্ত আর কোনো নদীই ড্রেজিংয়ের আওতায় আসেনি। শেখ হাসিনার সরকারই আবার দেড় ডজন ড্রেজার সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। তার অনেকগুলোই দেশে চলে এসেছে এবং সেগুলো দিয়ে নদী খনন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের প্রয়োজন শতাধিক ড্রেজারের একটি শক্তিশালী বহর। আমরা আশা করি, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সরকারগুলো ক্রমান্বয়ে সেদিকে এগিয়ে যাবে। আঞ্চলিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়েও আমাদের কূটনীতি জোরদার করতে হবে, যাতে নদীগুলোর উৎস থেকে পানির প্রবাহ ব্যাহত না হয়।

‘প্রমত্তা পদ্মা’ নেই, শুষ্ক মৌসুমে সেখানে থাকে ধু-ধু বালুচর। যমুনা, মেঘনা, কর্ণফুলীরও করুণ দশা। অথচ একসময় এসব নদীতে সারা বছরই বড় বড় স্টিমার চলত। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বন্দর ও ব্যবসাকেন্দ্র দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখত। ১৯৭৫ সালেও যেখানে ২৪ হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নদীপথ ছিল, আজ তা নেমে এসেছে ছয় হাজার কিলোমিটারের নিচে। শুষ্ক মৌসুমে তা নেমে আসে তিন হাজার কিলোমিটারে। নদীর এমন অপমৃত্যু কারো কাম্য নয়। নদী খননের বর্তমান উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। ক্রমান্বয়ে তা আরো জোরদার করতে হবে।

মন্তব্য