kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

তিতাস ও ওয়াসায় দুর্নীতি

প্রতিরোধে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিতাস ও ওয়াসায় দুর্নীতি

সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর দুর্নীতি, অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি, সেবার নিম্নমান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নতুন নয়। তিতাস ও ওয়াসা হচ্ছে এসব অনিয়মে চ্যাম্পিয়ন দুটি সংস্থা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনো ভদ্রলোক এখন এ দুটি সংস্থা নিয়ে কথা বলতেও অরুচি বোধ করেন। তা সত্ত্বেও সংস্থা দুটি আবার আলোচনায় উঠে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি সম্পর্কে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে বুধবার তা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্নীতির ২২টি খাত চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেই দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২টি সুপারিশ করা হয়েছে। একই দিনে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে উঠে এসেছে দুর্নীতির বিস্তৃত কলেবর। এ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ১৩ দফা সুপারিশও করেছে টিআইবি। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে কি? সংস্থা দুটির লাগামছাড়া দুর্নীতি কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে কি?

বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, শুধু কর্মকর্তা নয়, তিতাসের একেকজন মিটার রিডার, করণিকেরও শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। অতীতে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে তাদের দোষ কিছুটা স্খলন করে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। তিতাস আছে তার আগের পথেই। বরং অনিয়ম আরো ডালপালা মেলেছে। এ প্রসঙ্গে দুদকের সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘ট্রুথ কমিশনে যাওয়া তিতাস গ্যাসের অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভ্যাসগতভাবে অপরাধী। সে ক্ষেত্রে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আগে ট্রুথ কমিশনে গিয়েছিলেন, তাঁদের পদোন্নতি ও কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাঁদের পদায়ন উচিত নয়।’ কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বলেই জানা যায়, তাঁরাই এখনো তিতাসে মহাপ্রতাপশালী। কিছুদিন আগে গ্যাসের দাম আবারও বাড়ানোর ব্যাপারে গণশুনানি হয়েছে। হয়তো শিগগিরই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হবে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, তিতাসের দুর্নীতি আংশিক কমানো গেলেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হতো না। কিন্তু সরকার সেদিকে মনোযোগী হচ্ছে না কেন? একইভাবে ঢাকা ওয়াসার দুর্নীতি প্রতিরোধে টিআইবি যে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে, সেগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত।

বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে। এখন টেকসইভাবে এগিয়ে যাওয়ার পালা। উন্নয়ন নিয়ে গবেষণাকারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি এ ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক মনে করছেন দুর্নীতিকে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে দুর্নীতিকে যেকোনো মূল্যে রুখতেই হবে। তিতাস ও ওয়াসায় কারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করা কঠিন কোনো কাজ নয় বলেই আমরা মনে করি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

মন্তব্য