kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

বিনা মূল্যের বইয়ের একি হাল!

দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষকদের কাজ হলো শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। সে কারণেই শিক্ষকদের বলা হয় ‘মানুষ গড়ার কারিগর’। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়াও তাঁদের একটি প্রধান দায়িত্ব। এ জন্য শিক্ষকদের নীতিবান ও আদর্শস্থানীয় মানুষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু চারদিকে আমরা এসব কী দেখছি? শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে ছাত্রদের বাধ্য করেন তাঁদের কাছে কোচিং নিতে। শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে আরো বহুবিধ গুরুতর অন্যায়ের অভিযোগ উঠছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকালের কালের কণ্ঠে খবর রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩৮ মণ বিনা মূল্যের বই পুরনো কাগজের দোকানে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ১২ টাকা কেজি দরে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, বিনা মূল্যে বিতরণের একটি বই কোনোভাবেই বাইরে বিক্রি করার নিয়ম নেই। তাহলে বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা এ কাজটি করলেন কিভাবে?

প্রতিবছর বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে এসব বই ছাপানো হয়। উদ্দেশ্য, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত বই দেওয়া এবং অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর যেন পাঠ্যক্রম শুরু করতে দেরি না হয়, তা নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষার্থী অনুযায়ী বইয়ের চাহিদা দেয় এবং সে অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে বই সরবরাহ করা হয়। ফলে অতিরিক্ত বই আসা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি কোনো শিক্ষার্থীর বই না পাওয়ারও কথা নয়। বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী সব বই পায় না। তাদের বই চোরাইপথে চলে যায় বইয়ের দোকানে। সেখান থেকে অনেক মূল্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বই সংগ্রহ করতে হয়। আবার অনেক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে যে বই প্রদানের শর্ত হিসেবে বিভিন্ন ফি আদায় করা হয়। অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে ফি দিতে না পারায়ও বই পায় না। নিশ্চয়ই এ রকম কোনো কারণে বিদ্যালয়ে বইগুলো থেকে গিয়েছিল, যা এখন তারা ঠোঙার দোকানে কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছে। এটি একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত। এর ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থে বিনা মূল্যে বই বিতরণ কর্মসূচির আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের কুিসত চেহারাই ভেসে উঠেছে।

জানা যায়, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা চাই, এর সঠিক তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্য