kalerkantho

ফোকাস

গিনেস বুকে কনক

নোয়াখালীর কনক কর্মকার। সম্প্রতি কাপ ব্যালান্সিং করে নাম লিখিয়েছে গিনেস বুকে। ফুটবল ব্যালান্সিংয়েও দক্ষ। এক বছরের অনুশীলনেই গড়ল রেকর্ড। এই কিশোরের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গিনেস বুকে কনক

কনক কর্মকার পড়ছে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। সে রেকর্ড গড়েছে কাপ ব্যালান্সিং ও ফুটবল ব্যালান্সিংয়ে। এগুলো আবার কী? শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর কলাকৌশলের মাধ্যমে ফুটবল স্থির রাখাই হলো ফুটবল ব্যালেন্সিং। ঠিক একইভাবে কয়েক শ কাপ (বিশেষ করে কফির ডিসপোজেবল কাপ) শরীরের কোনো অঙ্গ যেমন—কপালে লাগিয়ে শূন্যে স্থির রাখা হলো কাপ ব্যালান্সিং।

শুরুর গল্প

ছোটবেলা থেকেই ফুটবল ভালো খেলত কনক। ফুটবলে ধ্যান-জ্ঞান ছিল বলা যায়। বন্ধুরা মিলে ফুটবল খেলার কথা শুনলে অন্য সব কাজ ফেলে ফুটবল নিয়ে দিত ছুট। কনক বলল, ‘আমি লক্ষ করি, যারা যারা ফুটবল ভালো খেলে, একসময় তারা কিন্তু পরে আর এ খেলা খেলতে পারে না। মানে প্রতিভা সব আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই ভাবলাম, ফুটবল নিয়ে এমন কিছু করব, যাতে ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ অনেক গুণ বেড়ে যায়।’ 

একদিন ইউটিউবে একটি ভিডিও নজরে পড়ে কনকের। ভিডিওতে একজনকে ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন কসরত করতে দেখে ও। তখনো কনক জানত না যে ফুটবল নিয়ে এমন কসরতের নাম ফুটবল ফ্রিস্টাইল। ‘২০১৮ সালের জানুয়ারির ৯ তারিখে প্রথম ফুটবল ফ্রিস্টাইলের সঙ্গে  পরিচিত হই। তার পর থেকেই শুরু হয় ফুটবল নিয়ে পথ চলা।’ কনক আরো জানাল, এমনো হয়েছে, সারা দিন ফুটবল নিয়েই পড়ে থাকত। যেখানেই যেত, সঙ্গী ফুটবল। এভাবেই ফুটবলপ্রেমী হয়ে ওঠে কনক কর্মকার। তারপর শুরু করে কাপ ব্যালান্সিং অনুশীলন। যার পরিণতি গিনেস বুকে রেকর্ড।

যেভাবে গিনেস বুকে

‘গিনেস বুক নিয়ে কে না জানে। কিন্তু কখনো চিন্তাও করিনি  সেখানে আমার নামও থাকবে। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন আলাদা কিছু করার। আর এটার একটা বড় স্বীকৃতি ওই গিনেস বুকে নাম ওঠানো।’

কনক দেখল যে গিনেসে রোকো মারকিও নামে এক ব্যক্তি কপালে ৫০০ কাপ রেখে রেকর্ড করেছে। তার রেকর্ডের নাম ছিল ‘মোস্ট কাপস ব্যালান্সড অন দ্য ফোরহেড’। কনক চিন্তা করল, রেকর্ডটি সে চাইলে ভাঙতে পারবে। তাই ৫০০-এর জায়গায় ৬০০ কাপ নিয়ে অনুশীলন শুরু করে। অবশেষে ছয় মাস ছয় দিন পর রেকর্ডটি করতে সক্ষম হয়। ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড কপালে সারিবদ্ধভাবে ৬০০টি গ্লাস রেখে ব্যালান্সিংয়ের রেকর্ড গড়ে ও। নিয়মানুযায়ী ভিডিও সাবমিট করতে হয় গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে। গতবছরের ২২ নভেম্বর সেটা সেরে ফেলেছিল ও।

ভবিষৎ ইচ্ছা

কনক এখন ভাঙতে চায় আরো আরো ব্যালান্সিং ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। এখন কপালে ১৬ মিনিট গিটার রেখে নতুন রেকর্ড গড়ার অনুশীলন করছে। এ ছাড়া মাথায় বল নিয়ে খুব অল্প সময়ে এক মাইল পথ পাড়ি দেওয়ারও অনুশীলন করে। ‘আমার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে আরো তিনটি রেকর্ড করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ডহোল্ডার হব। আমার জানামতে, এখন পর্যন্ত দুজন (আবদুল হালিম ও পণ্ডিত সুদর্শন দাস) তিনটি করে রেকর্ড করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ডহোল্ডার হিসেবে রয়েছেন। তাই আমার ইচ্ছা, আমি চারটি রেকর্ড করব।

মন্তব্য