kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

গুলশানের ডিএনসিসি কাঁচাবাজার

ছাইভস্ম থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মালপত্র বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ এপ্রিল, ২০১৯ ১১:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাইভস্ম থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মালপত্র বিক্রি

ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫০ জনের তালিকা, ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে ১০ হাজার টাকা, শ্রমিকরা ৩০ কেজি চাল

আগুনে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ী-দোকানিরা। ছাইভস্ম থেকে কুড়িয়ে পাওয়া কিছু পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছে তারা। গতকাল ডিএনসিসির গুলশান ১-এর মার্কেটের সামনে থেকে তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেট লাগোয়ো কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা গতকাল সোমবারও খোলা আকাশের নিচে অগ্নিদগ্ধ পোড়া মালামাল বিক্রি করেছে। এ নিয়ে টানা দুই দিন ধরে একই অবস্থার মধ্যে থাকতে দেখা গেছে তাদের।

রোজগারের উৎস এভাবে পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারের লোকজন চরম দুর্দশার মধ্যে আছে বলে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ডিএনসিসি কাঁচাবাজার মার্কেট সমিতির সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ গতকাল (সোমবার) বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, আগুনে ব্যবসায়ীসহ মোট ৭৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২১১ জন হলো ব্যবসায়ী। আর বাকি ৬৩৯ জন তাদের কর্মচারী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার করে টাকা। আর তাদের কর্মচারীরা পাচ্ছে ৩০ কেজি করে চাল। গত রবিবার এসব কর্মচারীর মধ্যে ১০০ জনকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। অন্যদের মঙ্গল ও বুধবারের মধ্যে এসব চাল ও টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকালও ডিএনসিসি পোড়া মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা এখনো খোলা আকাশের নিচে পোড়া সরঞ্জাম বিক্রি করছে। পাশেই কাপড় দিয়ে টানানো ছাউনির তলায় মুখ ভার করে বসে আছেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। তার পাশেই নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে পুলিশের একটি টিম।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মার্কেটটিতে অবস্থান করে কথা হয় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে। তারা বলেন, পোড়া মার্কেট সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই খোলা আকাশের নিচে ব্যবসা করবে তারা। তাদের দাবি, আগুনে ব্যবসায়ীদের কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি আর উঠে আসবে না। তবে যত দ্রুত মার্কেট সংস্কার করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে, তত উপকার হবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন করে মার্কেট তৈরি করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা খোলা আকাশের নিচে ব্যবসা করবে।

তবে কবে নাগাদ মার্কেট সংস্কারের কাজ শুরু হবে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কিছুই জানানো হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। শোনা যাচ্ছে, সেখানে কাঁচাবাজারের পরিবর্তে বহুতল ভবন গড়ে তোলা হতে পারে। আর এটা হলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সমিতির নেতারা।

মার্কেটটিতে ফের ব্যবসায়ীরা কবে ব্যবসা করতে পারবে—জানতে চাইলে ডিএনসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, কাঁচাবাজার নিয়ে প্রকল্প আরো আগেই তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বহুতল ভবন করা হবে।

গত শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলশান-১ নম্বরের ডিএনসিসি কাঁচাবাজার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়, যে কারণে এখন নিঃস্ব আন্তত ৩৫০ ব্যবসায়ী।

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকে পাবে ১০ হাজার টাকা আর শ্রমিকরা পাবে ৩০ কেজি করে চাল। এ সময় মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মানবিক দিক বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে আগুনের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা