kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

নিজ ক্যাম্পাসে ছিনতাই করতে গিয়ে জাবির তিন ছাত্র ধরা

পালিয়েছে দুজন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

৩১ মার্চ, ২০১৯ ১৩:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজ ক্যাম্পাসে ছিনতাই করতে গিয়ে জাবির তিন ছাত্র ধরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক কর্মচারীর জামাতাকে তুলে নিয়ে ছিনতাই, মারধর ও মুক্তিপণ নিতে গিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই তিন ছাত্র হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তারা হলো ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের মো. রায়হান পাটোয়ারী, একই ব্যাচের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মো. আল রাজী এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের ছাত্র সঞ্জয় ঘোষ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো দুই ছাত্র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শাহ মোস্তাক আহমেদ সৈকত এবং দর্শন বিভাগের মোকাররম হোসেন শিবলু পালিয়েছে।

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার ভোরে ওই পাঁচ ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকার যাত্রী ছাউনির নিচে থেকে বাসচালক মো. আলমগীর হোসেনের জামাতা মনির সরদারকে একটি অটোরিকশায় জোর করে তুলে নেয়। পরে তাঁকে মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন পানির পাম্পের কাছে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র ও টাকা ছিনিয়ে নেয় ওই পাঁচ ছাত্র। তারা মনির সরদারকে জোর করে ইয়াবা কারবারি বানানোর চেষ্টা করে। পরে বাসায় ফোন দিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ছিনতাইকারীরা। খবর পেয়ে মনিরের শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে দুজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে ধরে পিটুনি দেন তাঁরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা আহত মনিরসহ ছিনতাইকারীদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করেন। মনির সরদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রক্টর অফিসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তিনজন ছিনতাই, মারধর ও মুক্তিপণ দাবির কথা স্বীকার করেছে।

জানা গেছে, আটক রায়হান পাটোয়ারীকে এর আগেও ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই বছরের জন্য বহিষ্কার ও ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও সে এখন ছাত্রলীগের ছত্রচ্ছায়ায় আবাসিক হলে থাকে। এদিকে সঞ্জয় ঘোষ ও আল রাজী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার পক্ষে রাজনীতি করেন বলে তারা দাবি করেছে। এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করছি। আগামীকাল (রবিবার) জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য