kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ১৭:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা

আফসান চৌধুরী সম্পাদিত ‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে গ্রন্থটির ওপর আলোচনা করেন গবেষকরা।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৈরি করা ‘গ্রামের মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। তথ্যচিত্রটির পরিচালনা ও প্রযোজনায় ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক আফসান চৌধুরী এবং গবেষণায় ছিলেন এনামুল হক ও জাকির হোসেন তমাল।
  
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টানলে কেবল রাজনৈতিক ও সম্মুখ সমরের কথাই আলোচিত হয়। তবে কেবল শহুরে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাধ্যমে নয় বরং সব পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীকার স্বাধীনতায় রূপ লাভ করে। গ্রামের মুক্তিযুদ্ধ, ব্যক্তিক সংগ্রাম, নারীদের অবদান, শরণার্থী শিবিরের গল্পসহ মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস উঠে এসেছে গবেষক আফসান চৌধুরী সম্পাদিত ‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থটিতে।

১৩টি অধ্যায় নিয়ে রচিত ‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থটি সম্পাদনায় আফসান চৌধুরীকে সহায়তা করেছেন একদল তরুণ গবেষক। তাদের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী ফৌজিয়া আফরোজ। ‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বইটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার আসল চিত্র ফুটে উঠেছে।’

গ্রন্থটির অপর গবেষক জাকির হোসেন তমাল বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন দিনগুলোতে মানুষের জীবনচিত্র, তাদের সংগ্রাম-বেঁচে থাকার অনেকগুলো গল্প রয়েছে গ্রন্থটিতে। গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাঠককে ভিন্ন আঙ্গিকে ভাবতে বাধ্য করবে।’

‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থের সম্পাদক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের শিক্ষক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল রাজনৈতিক ও পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে বাঙালীর সম্মুখ সমরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দেশে প্রথমবারের মতো আমরা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করেছি। মুক্তি সংগ্রামের দিনগুলোতে নারী, সংখ্যালঘুদের জীবনের দিকটা তুলে ধরেছি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নারীদের সহানুভূতির চোখে দেখা হয়, তাদের কৃতিত্ব, সংগ্রাম, আত্মত্যাগের কথা সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেছি। মুক্তিযুদ্ধ শহরের চেয়ে গ্রামেই বেশি হয়েছে। অথচ ইতিহাস থেকেই সেই গ্রামগুলোর কথাই হারিয়ে গেছে। আমরা প্রতিকূল সেই সময়গুলোতে সর্বস্ব হারানো গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার গল্পগুলো সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

‘গ্রামের একাত্তর’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনেশন আহমেদ আতাউল হাকিম ও ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ফেরদৌস আজিম উপস্থিত ছিলেন।
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা