kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

কামরাঙ্গীরচরে যুবলীগের এক গ্রুপের ওপর আরেক গ্রুপের হামলা, গুরুতর আহত ২

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ১৬:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কামরাঙ্গীরচরে যুবলীগের এক গ্রুপের ওপর আরেক গ্রুপের হামলা, গুরুতর আহত ২

রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং চাঁদা না দেওয়ার জেরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের অনুসারীদের হামলায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সেখানকার দুই যুবলীগ কর্মী।

গত ১১ মার্চ রাত ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের জাউলাহাতির হযরত নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হোসেন কাউন্সিলরের অনুসারী ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক দুর্বৃত্ত এ হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ। কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপির ঘনিষ্ঠ লোক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় দুই যুবলীগ নেতাসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন সোহাগ ও যুবলীগ নেতা মো. জাহিদ গুরুতর আহত অবস্থায় শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি আছেন। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।

এ ছাড়া হামলায় ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন শাকিল এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন সাকিব আহত হন। তারা চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, কাউন্সিলর হোসেনের ইশারায় হামলার পর উল্টো হামলায় আক্রান্তদেরকেই আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। অথচ গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ীদের মামলা নেয়নি কামরাঙ্গীরচর থানা।

কামরাঙ্গীরচরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে চলেছে নানারকম সংঘাত। কামরুল ইসলামের অনুসারীদের হামলা, মামলা ও লাঞ্ছণার শিকার হয়েছেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শাহীন আহমেদের অনুসারী নেতাকর্মীরা। শেষপর্যন্ত দল থেকে কামরুল ইসলাম মনোনয়ন পেলে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন কামরুলের অনুসারীরা। রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতার বাছ-বিচার না করেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মামলা চালিয়ে যেতে থাকে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১১ মার্চ রাতের এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন শাকিল জানান, ‘কামরুল ইসলামের লোকজনের অত্যাচার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের এলাকায় থাকতে নিষেধ করা হচ্ছে। সেদিন হামলাকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালিয়েছিলো। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্তত শতাধিক ক্যাডার আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমজাদ ও জাহিদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। তারা মারা গেছে ভেবে হামলাকারীরা চলে যায়। কিন্তু এ দুজন এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।’

এই যুবলীগ নেতার অভিযোগ, রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের পাশাপাশি এখানে চাঁদাবাজির ঘটনাও রয়েছে। কাউন্সিলর হোসেনের পরিচয়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আমজাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা