kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মাথাপিছু চিকিৎসা ব্যয় ৯ টাকা, চিকিৎসক একজন!

মাসুদ রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

১৬ মার্চ, ২০১৯ ১২:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাথাপিছু চিকিৎসা ব্যয় ৯ টাকা, চিকিৎসক একজন!

নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বার্ষিক চিকিৎসা বাজেট মাত্র দুই লাখ টাকা। সেই হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা বছরে মাত্র ৯ টাকার চিকিৎসা সুবিধা পান। আর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক।

২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেডিক্যাল সেন্টার চালু হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে এটি থেকেও না থাকার মতো। চিকিৎসার নামে চলছে শুধু ওজন মাপা ও প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়ার কাজ।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে থাকে। মাত্র একজন চিকিৎসকের পক্ষে এত মানুষকে ঠিকঠাক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে রোগীর চাপে চিকিৎসক নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ছাড়া তিনি ছুটিতে থাকলে মেডিক্যাল সেন্টারটি চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। তখন সবাই বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নিচতলায় মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য তিনটি রুম বরাদ্দ থাকলেও কার্যত ব্যবহার করা হয় একটি। একটি ওজন মাপার যন্ত্র, একটি প্রেসার মাপার যন্ত্র, দুটি শয্যা ও একটি অ্যাম্বুল্যান্স এই দিয়ে চলছে এত মানুষের চিকিৎসার কাজ।

মেডিক্যাল সেন্টারে ৪২ ধরনের ওষুধের তালিকা থাকলেও এর বেশির ভাগই পাওয়া যায় না। ফলে বাইরে থেকে ব্যক্তিগত খরচে কিনতে হয় ওষুধ।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসার জন্য গেলে একবার আমাকে এক হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেওয়া হয়, যার মধ্যে একটি ওষুধও সেখান থেকে দিতে পারেনি। এত টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আমার পক্ষে আর চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

বাংলা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের লতিফুল ইসলাম জানান, তিনি জ্বর ও গলা ব্যথা নিয়ে মেডিক্যাল সেন্টারে গেলে চিকিৎসক দুটি নাপা দিয়ে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেন।

মেডিক্যাল সেন্টারের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার মিতা শবনম বলেন, ‘আমার একার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। মাঝেমধ্যে এত রোগী আসে যে চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে আরো কয়েকজন চিকিৎসক পেলে এটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। মেডিক্যাল সেন্টারের বাজেট বাড়ালে এবং প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি বাড়ালে এখানে আরো ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান জানান, কিছুদিনের মধ্যে নতুন চিকিৎসক দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আগামীবার থেকে দ্বিগুণ বাজেট রাখা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা