kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

খিলগাঁওয়ে রুবেল হত্যাকাণ্ড

মাত্র দুই লাখ টাকার লোভে ঘটনা চেপে যান বাবা

দুই সহোদর গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০৩:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাত্র দুই লাখ টাকার লোভে ঘটনা চেপে যান বাবা

ছেলেকে খুন করা হয়েছে, এ খবর জানতেন নাজিম উদ্দিন। তার পরও মাত্র দুই লাখ টাকা পাওয়ার লোভে সন্তান হত্যার বিষয়টি তিনি চেপে যান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই টাকাও পাননি তিনি। অবশেষে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন ইদারকান্দী গ্রামের চাঞ্চল্যকর রুবেল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আল আমিন ও শামীম নামের দুই সহোদরকে।

গত ১১ মার্চ বিকেলে খিলগাঁও থানার ইদারকান্দী বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে রুবেলের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রুবেলের বাবা নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে খিলগাঁও থানার অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। যদিও এটা যে হত্যাকাণ্ড তা তিনি প্রথম থেকেই জানতে পেরেছিলেন। তবে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে র্যাব-৩ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিকটিম রুবেলের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ বিষয়ে নিহতের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। নাজিম উদ্দিন জানান, তাঁর সন্তানকে প্রকৃতপক্ষে হত্যা করা হয়েছে। রুবেলের লাশ প্রকৃতপক্ষে ইদারকান্দী গ্রামের দূরসম্পর্কের আত্মীয় শামীমের নির্মাণাধীন রান্নাঘরের ভেতরে পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই শামীম ও তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে জানায় যে রুবেল বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে তাঁদের রান্নাঘরের ভেতর পড়ে আছে। কিন্তু সন্তানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। তখন আল আমিন তাঁকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। লোভে পড়ে সন্তান হত্যার বিষয়টি চেপে যেতে তিনি রাজি হয়ে যান। তবে পরবর্তী সময়ে আল আমিন তাঁকে প্রতিশ্রুত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য র‍্যাব-৩-এর একটি দল গতকাল বুধবার ভোরে ইদারকান্দী গ্রামে অভিযান চালিয়ে সহোদর আল আমিন ও শামীমকে আটক করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে রুবেল হত্যার মূল রহস্য।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন ও শামীম জানান, রুবেল মাদকসেবী ছিলেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে তিনি বিভিন্ন সময় চুরি করতেন। ঘটনার দিন রাতে রুবেল চুরি করার উদ্দেশ্যে শামীমের ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেন। শামীম শব্দ পেয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন। 

এ সময় চোর সন্দেহে রুবেলের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয় এবং রুবেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। রুবেল মাটিতে পড়ে গেলে শামীম তাঁর বড় ভাই আল আমিনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বিস্তারিত জানান। তখন তাঁরা ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে নিজেদের নির্মাণাধীন রান্নাঘরের টিনের বেড়ার নিচ দিয়ে রুবেলের লাশ বাড়ির বাইরে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু লাশ অর্ধেক বাইরে গিয়ে আটকে যায়। তখন তাঁরা এ ঘটনাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হিসেবে চালানোর ফন্দি আঁটেন। 

রুবেলের মা-বাবা, চাচা ও আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে বলেন যে রুবেল বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে তাঁদের বাড়িতে পড়ে আছেন। কিন্তু রুবেলের বাবার সন্দেহ হলে তাঁরা তাঁকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে ঘটনা চেপে যেতে বলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা