kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

যে কারণে বিখ্যাত পুরান ঢাকার চকবাজার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যে কারণে বিখ্যাত পুরান ঢাকার চকবাজার

বুধবারের ভয়াবহ আগুনে ৭৮ জন প্রাণহানির ঘটনায় নতুন করে আলচনায় এসেছে মুঘল আমলে গড়ে ওঠা ঢাকার এককালের প্রাণকেন্দ্র চকবাজার। যদি পুরান ঢাকায় এমন দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়।  ইতিহাসবিদরা বলেন, পুরান ঢাকার এই চকবাজারের সূচনা হয়েছিল মুঘল আমলে। আর তখন থেকেই ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই চকবাজার।

বিজ্ঞাপন

এবার জানা যাক কীভাবে বিখ্যাত হয়ে উঠল রাজধানীর এই জায়গাটি।

ব্যবসার পাশাপাশি এই চকবাজারে আছে হোসেনি দালান, বড় কাটরা, ছোট কাটড়া কিংবা শাহী মসজিদের মতো নানা ধরণের স্থাপত্যকর্ম। তবে এই ৪০০ বছর পরে এসে ঢাকা অনেক বিস্তৃত হয়েছে সব দিকেই। কিন্তু ব্যবসায়িক বিবেচনায় গুরুত্ব হারায়নি চকবাজার।  ঢাকায় ইফতার সামগ্রীর প্রধান ও বড় বাজার হয় চকবাজারেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ চকবাজার নিয়ে গবেষণা করছেন।

তিনি বলেছেন, 'অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল চকবাজার। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ আমলেও এর ভেতরকার কোনো পরিবর্তন হয়নি। জনসংখ্যা আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। রাস্তাঘাট অলিগলি সেই সরুই রয়ে গেছে। সে কারণেই বুধবার রাতে দুর্ঘটনায় রাস্তায় থাকা মানুষও মারা গেছে। '

তিনি আরও বলেন, 'চক শব্দটা এসেছে ফার্সি শব্দ থেকে। বাণিজ্যিক গুরুত্ব নিজেই গড়ে উঠেছে এই চকবাজার। সতের শতকে মুঘলরা আসার পর থেকে চকবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। পরে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেই দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু চকবাজারের রাস্তাঘাট নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা কেউ করেনি।  এক সময় বিয়ের কেনাকাটার প্রধান বাজার ছিল চকবাজার। এমনকি বরযাত্রীদের চকবাজার ঘুরে যাওয়ার একটা রীতি ছিল। '

এখন সেইসব রীতিনীতি বিদায় নিলেও পুরান অনেক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ হয়ে আছে বাংলাদেশের ঢাকার পুরান অংশের এই চকবাজার। ২০০১ সালের হিসেবে, এখানে প্রতি বর্গকিলমিটারে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বাস করে। পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি ভবনেই রয়েছেন কেমিক্যাল কারখানা, গোডাউন কিংবা অন্য কোনো ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে অপরিকল্পিত ভবন, সরু রাস্তা, নোংরা অলিগলির পাশাপাশি গত দু দশকে এই চকবাজার এখন রীতিমত এক অগ্নিকাণ্ড।

এই চকবাজারের যত্রতত্র গড়ে উঠেছে উচ্চ মাত্রার দাহ্য পদার্থের মজুত, প্লাস্টিক কারখানা, পারফিউম কারখানা- যেগুলর সবই তৈরি হয়েছে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া। এর আগে ২০১০ সারে পুরান ঢাকার নিমতলীতে অগ্নিকান্ডে ১২৩ জন নিহত হবার পর সব কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেয়ার কথা বলেছিল কর্তৃপক্ষ। উচ্চ মাত্রার কেমিক্যাল বিপণন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধও করা হয়েছিল। কিন্তু সবকিছুই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

বাংলাদেশের পরিবেশ পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো: সামসুল আলম বলছেন, ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে চকবাজারের এই দুর্ঘটনা ঘটত না।

পুরান ঢাকার সরু রাস্তাঘাট বরাবরই নানা দুর্ঘটনায় আলচনায় এসেছে। পুরান ঢাকার অন্য অংশের মতো চকবাজারের রাস্তাও অনেক সরু আর সরু রাস্তার ওপরেই বিদ্যুৎসহ নানা পরিষেবার তারের জটলা। যেখানে সেখানে ট্রান্সফরমার যার একটি বিস্ফোরণ থেকেই চকবাজারের বুধবার রাতের দুর্ঘটনার সুচনা বলে মনে করা হচ্ছে। রাসায়নিকের পাশাপাশি চকবাজারের জমে ওঠা অন্য দুটি ব্যবসায়িক পণ্য হল- প্লাস্টিক দ্রব্য ও পারফিউম। ফলে ওই এলাকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে প্লাস্টিক ও পারফিউমের কারখানা।

সামসুল আলম বলছেন, 'উচ্চ মাত্রার দাহ্য পদার্থের মধ্যে একটি রয়েছে প্লাস্টিক দানা। এতে আগুন লাগলে নিয়ন্ত্রণ খুবই কষ্টের হয়ে যায়'।

তবে রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক দ্রব্য ও পারফিউমের বাইরে আরও একটি বিষয়ের জন্য আকর্ষণীয় এই চকবাজার। সেটি হল খাবার। বিশেষ করে রোজার সময় বাহারি ধরণের ইফতার সামগ্রীর দোকানে ভরে যায় চকবাজারের রাস্তাঘাট যেখানে ভিড় করেন লাখ লাখ মানুষ। চকবাজারের কাবাব কিংবা বিরিয়ানি খেতে প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষ সেখানকার রেস্টুরেন্ট বা খোলা দোকানে ভিড় করেন।



সাতদিনের সেরা