kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

এটিএম বুথে জালিয়াতি

ইউক্রেন থেকে বহু লোকের আসা-যাওয়া ঘিরে রহস্য

দেশি-বিদেশি অনেকের জড়িত থাকার সন্দেহ

এস এম আজাদ   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথে অটোমেটেড টেলার মেশিনে (এটিএম) জালিয়াতি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রটি রহস্যঘেরা এক হ্যাকিং কার্ড ব্যবহার করেছে। কিভাবে এই কার্ড কাজ করেছে তা প্রাথমিক তদন্তে বের করতে পারেননি পুলিশের গোয়েন্দারা। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের পর তাইওয়ান, হংকং ও থাইল্যান্ডে একই ধরনের জালিয়াতি হয়েছে। সেখানে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ইউক্রেনের আটক ছয় নাগরিকের কাছে যেসব কার্ড পাওয়া গেছে সেগুলো বিদেশি একটি ব্যাংকের কার্ডের কপি (নাম ব্যবহার করা)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধরা পড়লে তদন্তের গতিপথে বিভ্রান্তি ছড়াতে চক্র এই কৌশল নিতে পারে।

এদিকে সম্প্রতি কতজন বিদেশি দেশে এসেছে সেই খোঁজ নিতে গিয়ে রহস্যজনক তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথে জালিয়াতির ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে ইউক্রেন থেকে ৭৪ জন বাংলাদেশে এসেছে এবং ফেরত গেছে ১০৪ জন। শনাক্ত হওয়া সাত ইউক্রেনিয়ান গত ৩০ মে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসে। তারা ৬ জুন ভারতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনায় ছিল। সংখ্যাটি অস্বাভাবিক ধরে নিয়ে এদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। বুথ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা গায়েব হওয়া, ভিতালি ক্লিমচাক নামে এক ইউক্রেনিয়ান পলাতক থাকা এবং ৯টি বুথে জালিয়াতি নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই চক্রে দেশি-বিদেশি অনেকে জড়িত। 

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এবং মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দুটি মামলায় নতুন এই ব্যাংক জালিয়াতির নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। গত সোমবার বাড্ডা থানায় মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় আর্থিক জালিয়াতির সূত্র খুঁজছে সিআইডি। আর ডিজিটাল জালিয়াতির মামলায় ফরেনসকি দল ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে নেটওয়ার্ক বের করার চেষ্টা করছে ডিবির দল। তথ্য বের করতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ বুধবার ইউক্রেনের ছয় নাগরিককে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিনব এই আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে বিদেশি হ্যাকার গ্রুপ জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। দেশি কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।’

জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহিদুর রহমান রিপন বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা সম্ভবত কাল (আজ) আসামিদের নিয়ে আসব। বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছি।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জালিয়াতি ধরা পড়ার দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ তদন্তকারী একটি সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দাদের আগাম তথ্য দেয়। এই তথ্য পেয়ে সিআইডি গত ২৯ মে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। ব্যাংকটি সতর্ক থাকায়ই বড় ধরনের জালিয়াতির আগে ধরা পড়ে যায় চক্রটি। একই সঙ্গে কার্ডসহ ৩০টি ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা