kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ধামরাইয়ে শ্রমিকদের তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার ধামরাইয়ে শ্রমিকবাহী একটি বাস বাথুলি বাসস্ট্যান্ডে সড়ক বিভাজনের ওপর উঠে গিয়ে প্রায় ৩০ শ্রমিক আহত হয়। কিন্তু শ্রমিকদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং আরো কিছু দাবি নিয়ে মাহমুদা এট্রির্চ লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গতকাল সকালে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। 

গতকাল রবিবার সকাল ৭টার দিকে বালিথায় অবস্থিত রাইজিং গ্রুপের পোশাক কারখানাটির দুই হাজার শ্রমিক মহাসড়কে নেমে আসে। পরে ধামরাই থানা ও আশুলিয়ার শিল্প পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার ভিত্তিতে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। পরে কারখানাটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকরা জানায়, রবিবার ভোরে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য মানিকগঞ্জের রাজিবপুর থেকে শ্রমিকরা কারখানার বাসে করে রওনা দেয়। বাসটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলি বাসস্ট্যান্ডে হঠাৎ সড়ক বিভাজনের ওপর উঠে পড়ে। এতে ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে কারখানায় নেওয়া হয়। এ সময় কারাখানা কর্তৃপক্ষ আহতদের হাসপাতালে না পাঠিয়ে  কারখানার নিজস্ব ডাক্তারের অপেক্ষায় থাকে। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের চাপের মুখে আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এক শ্রমিক নিহতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে নামে শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, তাদের কারখানায় ভালো চিকিৎসক ও অ্যাম্বুল্যান্স নেই। কেউ অসুস্থ হলে ছুটি দেওয়া হয় না। কারণে-অকারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নির্যাতন করে। অতিরিক্ত ‘ওভার টাইম’ করানো হলেও মজুরি দেওয়া হয় না।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক আহত হওয়ার পর কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।

কারখানার চিফ অপারের্টিং অফিসার মোহাম্মদ ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিক মারা না গেলেও শ্রমিকরা আকস্মিকভাবে এক শ্রমিকের নিহতের গুজব ছড়িয়ে দেয়। এতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। তাদের যেসব দাবি-দাওয়া রয়েছে তা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান দেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা