kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

চকবাজার শাহী মসজিদে ইফতার গড়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন

মাসুদ রানা   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চকবাজার শাহী মসজিদে ইফতার গড়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন

পুরান ঢাকার প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম চকবাজার শাহী মসজিদ। রমজান মাসে এই মসজিদে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোজাদারের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

চকবাজার শাহী মসজিদ পুরান ঢাকার বিখ্যাত ও প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। রমজান মাসে প্রতিদিন এই মসজিদে এক হাজার রোজাদার ব্যক্তির জন্য ইফতারের আয়োজন করে আসছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন বিভিন্ন পেশার মানুষ ইফতারে অংশ নেয়। ফলে তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে। একে অপরের অপরিচিত হয়েও পাশাপাশি বসে ইফতার করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আসরের নামাজ শেষ হওয়ার পর রোজাদার মানুষজন ইফতারের জন্য মসজিদে প্রবেশ করছে। ইফতারের সময় যত এগিয়ে আসছে, লোকজনের সমাগমও বাড়ছিল। সন্ধ্যা ৬টার সময় মসজিদের ভেতরে রোজাদাররা লম্বা সারিতে বসে পড়ে। একদিকে ইফতার প্রস্তুত করার কাজ করছে অনেকে। কেউ থালা, জগ, গ্লাস ধুয়ে সাজাচ্ছে; আবার কেউ বসার জন্য জায়গা প্রস্তুত করছে। আরেকজন বসে প্রতিটি থালায় সমভাবে বণ্টন করছে ইফতারসামগ্রী। এর মধ্যে আছে খেজুর, শসা, পেয়ারা, আনারস, তরমুজ, কলা, আপেল, মাল্টা, শিঙাড়া, চপ, জিলাপি, পুরি হালুয়া, ছোলা, মুড়িসহ নানা পদ।

জানা যায়, ১৬৭৬ সালে শাহী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতি রমজানে ইফতারের আয়োজন করে আসছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মসজিদে ইফতার করানো পুরার ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্য। তা ছাড়া প্রতি বন্ধের দিন এখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাগম বাড়ে। যার ফলে ইফতার আয়োজন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। 

চকবাজারে শ্রমিকের কাজ করেন ফজলাল। তিনি প্রতিদিন কাজ শেষে শাহী জামে মসজিদে ইফতার করতে আসেন। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক লোকজনের সঙ্গে আমার ইফতার করতে ভালো লাগে। তা ছাড়া এখানে ইফতার করার মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’ 

শরিফ হোসেন চকবাজারে একটি বেসরকারি ব্যাংকে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এলাকার মধ্যে শাহী মসজিদে ইফতারের ব্যবস্থা থাকে, তাই তিনি এখানে প্রতিনিয়ত ইফতার করেন।

১০ বছরের আকিব চকবাজারে কসমেটিকসের দোকানে কাজ করে। সেও মাঝে মাঝে এখানে ইফতার করে। কখনো কাজের জন্য আসতে পারে না। তবে অন্য জায়গার চেয়ে এখানে তার ইফতার করতে বেশি ভালো লাগে। আবুল হোসেন ঘোড়ারগাড়ি চালান। তিনি রমজান মাসে বিকেলে ঘোড়ারগাড়ি বন্ধ রেখে ইফতার করতে চলে আসেন।

চাঁদপুরে বাড়ি হারুন কসমেটিকসের পাইকারি মাল কিনতে চকবাজারে নিয়মিত আসেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি রমজানে চকবাজারে মার্কেট করতে এলে এখান থেকে ইফতার করে যাই।’

চকবাজার শাহী জামে মসজিদের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এ মসজিদের প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য রোজাদার ব্যক্তিদের জন্য মসজিদ কমিটির সব সদস্যের নিজস্ব অর্থায়নে ইফতারের আয়োজন করি। এতে মসজিদের কোনো অর্থ খরচ করা হয় না। আমাদের পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করি। আমরা রমজান মাস আসার আগেই মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিই কিভাবে এ মাসের ইফতারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

মন্তব্য