kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদের কেনাকাটা

সৌন্দর্যে সেরা জামদানি

ফারজানা লাবনী   

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌন্দর্যে সেরা জামদানি

বসুন্ধরা শপিং মলে গতকাল ঈদের কেনাকাটায় লক্ষ করা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

অপূর্ব নকশা, বাহারি রং আর সূক্ষ্ম বুননে প্রতিটি জামদানি শাড়ি হয়ে উঠেছে অতুলনীয়। সৌন্দর্যে একটি যেন অন্যটির চেয়ে বেশি। গুণগত মান আর নজরকাড়া শোভায় সব বয়সীর কাছেই যুগ যুগ ধরে জামদানি পছন্দের পোশাক। ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবেও জামদানি শাড়ির চাহিদা সব বয়সীর কাছেই রয়েছে।

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বড় বড় শপিং মল থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠা বড় মাপের প্রায় সব শাড়ির দোকানেই হরেক রকম শাড়ির সঙ্গে জামদানিও বিক্রি হচ্ছে যথেষ্ট পরিমাণে। মিরপুর বেনারসি পল্লীর প্রায় সব দোকানেই বিভিন্ন নকশার জামদানি বিক্রি হচ্ছে। বেনারসি পল্লীর রঙ্গন নামের শাড়ির দোকানের বিক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদে বিভিন্ন শাড়ির চাহিদা বাড়ে-কমে। তবে জামদানির চাহিদা সব সময় সবার ওপরে থাকে।’

আবার ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় শুধু জামদানি শাড়ি নিয়ে মেলাও হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার  থেকে ১০ দিন জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে  জামদানি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

সরেজমিনে এই প্রদর্শনী, বেইলি রোড ও মিরপুর বেনারসি পল্লীর বিভিন্ন শাড়ির দোকান ঘুরে দেখা যায়, জামদানি শাড়ি আড়াই বা তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ঘন কাজের কিছু শাড়ি এক থেকে দেড় লাখ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। যদিও দামি এসব শাড়ির ক্রেতা কম। সুতি, সিল্ক ও হাফ সিল্কের জামদানি শাড়ি তৈরি করা হয়। জামদানি শাড়ির জমিনে তোলা ভিন্ন ভিন্ন নকশায় রয়েছে সুন্দর সব নাম। এসব নকশার নামেই শাড়ির পরিচিতি। তেরছা, জলপাড়, পান্নাহাজার, করোলা, দুবলাজাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলাফুল, আঙ্গুরলতা, ময়ূরপ্যাঁচপাড়, বাঘনলি, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, বুটিদার, ঝালর, ময়ূরপাখা, পুইলতা, কল্কাপাড়, কচুপাতা, প্রজাপতি, জুঁইবুটি, হংসবলাকা, শবনম, ঝুমকা, জবাফুলসহ কত নামের যে জামদানি আছে!

বিসিকের এ প্রদর্শনিতে প্রধান অতিথি হিসেবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শিল্প সচিব আব্দুল হালিম উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান মোস্তাক হাসান। প্রদর্শনীতে ২৫টি স্টল রয়েছে। জামদানি প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রাচীনকাল থেকেই শীতলক্ষ্যা নদীর পার বরাবর পুরাতন সোনারগাঁ অঞ্চলটিই ছিল জামদানি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত স্থান। বর্তমানে রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ এবং সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ১৫৫টি গ্রামে এই শিল্পের ঠিকানা। নিজস্ব সৌন্দর্য আর গুণগতমানের জন্য জামদানি শাড়ি দেশ ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশেও বিক্রি হচ্ছে। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জামদানি শিল্প এখন ইউনেসকো ঘোষিত ওয়ার্ল্ভ্র হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত। এ অর্জন আমাদের গৌরবের।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা