kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

দুই মামলায় একজনেরও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর

আশরাফ-উল-আলম   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনার ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে। নির্মাণে ত্রুটিপূর্ণ ভবনটি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলাকে দায়ী করে মামলাও হয়। অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়। কিন্তু শুধু শুনানিতে ঘুরপাক খাচ্ছে এই মামলা। এখন পর্যন্ত একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়নি।

ত্রুটিপূর্ণ ওই ভবনের মালিকসহ নির্মাণকাজে জড়িত ও তদারকিকে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা ইমারত নির্মাণ আইনের মামলারও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি গত ছয় বছরে।

ওই ঘটনার বিচার কবে হবে তার নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট কারোরই যেন এই মামলা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তাই প্রশ্ন উঠেছে সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলার কি কোনো গুরুত্ব নেই? প্রায় তিন বছর আগে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলেও বিচার শুরু হয়নি।

মামলার নথিপত্র থেকে দেখা যায়, পৃথক দুই মামলা পৃথক আদালতে বিচারাধীন। দুই মামলার অভিযোগ গঠনের পরই আসামিরা অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন জানান। এ কারণে স্থগিত হয় মামলা। যে কারণে বিচারাধীন মামলায় আর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা যায়নি।

রানা প্লাজা ধসে পড়লে চাপা পড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার পোশাক শ্রমিক। ধ্বংস্তূপ থেকে দুই হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার হয় এক হাজার ১৩৬ জনের। পঙ্গু হয় দুই হাজার শ্রমিক।

ওই ঘটনায় সাভার থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ ত্রুটিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এত লোকের প্রাণহানি হয়েছে উল্লেখ করে ‘অবহেলাজনিত হত্যার’ অভিযোগ এনে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। মামলার ৪১ আসামির মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক ও আবুল হোসেন মারা যান। দুজনকে বাদ দিয়ে এখন আসামির সংখ্যা ৩৯ জন। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই অভিযোগ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন আসামি হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। তার মধ্যে আসামি রেফাত উল্লাহ ও হাজি মোহাম্মদ আলীর পক্ষে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

ইমারত নির্মাণ আইনের মামলা : ঘটনার পর ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করার অভিযোগে সাভার থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। ২০১৬ সালের ১৪ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরে এই অভিযোগ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করলে নিম্ন আদালতের নথি তলব করা হয়। ফলে বিচারিক আদালত আর সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারেননি।

মন্তব্য