kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

জুরাইন কবরস্থান

সংস্কারে নিশ্চিহ্ন রানা প্লাজার শ্রমিকদের কবর!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সংস্কারে নিশ্চিহ্ন রানা প্লাজার শ্রমিকদের কবর!

কবরস্থান সংস্কারের কারণে রানা প্লাজা ও তাজরীনের অজ্ঞাতপরিচয় শ্রমিকদের কবরগুলো এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ছবি : তাসলিমা আখতার

রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনসের পরিচয় শনাক্ত না হওয়া যে ২৯১ শ্রমিকের মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল, তাদের কবরগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবছরের মতো রানা প্লাজায় নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি হাজির হয়েছিল জুরাইন কবরস্থানে। কিন্তু স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা জুরাইন কবরস্থানে ঢুকে হতাশ হন। কবরস্থান সংস্কারের কারণে রানা প্লাজা ও তাজরীনের অজ্ঞাতপরিচয় শ্রমিকদের কবরগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অনেক খুঁজে রানা প্লাজার এক শ্রমিকের কবরের সাইনবোর্ড কেবল খুঁজে পাওয়া গেলে সেই সাইনবোর্ডের সামনেই শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন স্বজনসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির প্রধান তাসলিমা আখতারের সঙ্গে জুরাইন কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ হৃদয়ের মা আঞ্জুয়ারা বেগম, নিহত সেলিনা আক্তারের স্বামী সিরাজ, নিহত মর্জিনা আক্তারের বোন হাত হারানো শ্রমিক রোজিনা, নিখোঁজ শ্রমিক সুরুজের ভাই সুজন, নিহত সান্তনার মা সাহিদা আক্তার, নিখোঁজ রিয়াজুল খোকনের বন্ধু রিপন, উদ্ধার হওয়া শ্রমিক রূপালী আক্তার এবং নিহত এক শ্রমিকের বোন ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাভার শাখার সংগঠক সেলিনা, সংগঠনের অর্থ সম্পাদক প্রবীর সাহা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রদীপ রায় প্রমুখ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাসলিমা আখতার বলেন, সারা দুনিয়ার কারখানার ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ঘটনা রানা প্লাজা হচ্ছে শ্রমিকদের পরাজয়ের স্মৃতি ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা। এ কারণেই হয়তো রানা প্লাজার স্মৃতিকে সর্বত্র মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। এরই নিদর্শন দেখা গেল জুরাইন কবরস্থানে গিয়ে। তিনি আরো বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের পর চার দফায় ২৯১টি লাশ বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাতানামা হিসেবে দাফন করা হয় জুরাইন কবরস্থানে। ডিএনএ পরীক্ষার পর ১৬২ জনের খোঁজ মেলে। তাদের অনেকেরই কবর আছে ওখানে। তখন সেই কবরগুলোর নম্বর দেওয়া হয়েছিল। পরে অনেকেই নিজ উদ্যোগে কবরে নাম-পরিচয় লিখে রেখেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রের অবহেলায় তা সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এবার সংস্কারের নামে বালু ভরাট করে পানি দিয়ে কবরগুলো ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে রানা প্লাজা বা তাজরীনের শ্রমিকরা এসে আর দাঁড়াতে না পারেন।’

মন্তব্য