kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসায় ৪৯৫ বিদেশি কারাগারে

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসায় ৪৯৫ বিদেশি কারাগারে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসায় ৪৯৫ জন বিদেশি নাগরিক কারাগারে আটক রয়েছে। কারাগারে থাকা ৮৬ বিদেশি নাগরিকের কারাভোগ শেষ হয়েছে। কিন্তু তাদের দেশ তাদের নিতে রাজি না হওয়ায় কারাগারেই আছে তারা। অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা বাংলাদেশের জেলখানায় রয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মানবপাচার প্রতিরোধে ইউএনডিপির সহযোগিতায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘কমব্যাটিং ট্রাফিকিং : রিপেট্রিয়েশন অব ভিকটিমস অব ট্রাফিকিং’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান গিওরগি গিগাউরি, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, অ্যাটসেক ইন্ডিয়ার ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর মানবেন্দ্রনাথ মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ পাচার করা হয়। তবে এখন প্রলুব্ধ হওয়া মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। অনেকে এখন বাংলাদেশে আসছে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর জন্য। বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের সংখ্যা অনেক কমেছে। ল্যাটিন আমেরিকায় প্রচুর জমি ছিল, কিন্তু কাজ করার মানুষ ছিল না। সেখানে নির্দয়ভাবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ধরে এনে জোর করে কাজ করানো হয়েছিল। একসময় আরবেও ক্রীতদাস প্রথা ছিল। আসলে ডিমান্ড থাকলে সাপ্লাইও হয়। একটা সময় বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার হয়েছে। এখনো হচ্ছে, তবে সেটা সংখ্যায় কমে আসছে। এখন যেটা হচ্ছে তা প্রলুব্ধ করা। বাংলাদেশ থেকে এখন জোর করে নয়, প্রলুব্ধ করে লোকজনকে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে পাচারকারীরা। এতে তারা ভিকটিম হচ্ছে, অনেকে বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রলুব্ধ হয়ে কেউ যেন দেশ ছেড়ে না যায়। এটি নিশ্চিত করতে সবাই মিলে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে করণীয় সব কিছু করবে সরকার। তবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কারণে প্রলুব্ধ হয়ে পাচারের সংখ্যা কমে আসছে। পাচার ঠেকাতে সব আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সব জেলায় কমিটি কাজ করছে।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই বাংলাদেশে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের জোর করে এ অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে রয়েছে। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ডার খুলে না দিলে নাফ নদ রক্তে লাল হয়ে যেত। রোহিঙ্গাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বেঁচে থাকা। ২০১৫ সালে নৌকা দিয়ে বিদেশে যাওয়ার যারা চেষ্টা করছিল, তাদের বেশির ভাগই ছিল রোহিঙ্গা। এখনো যারা নৌপথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে তাদের ৮০ শতাংশই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

ভারতের আদালত থেকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাদল ফরাজিকে বাংলাদেশে আনা হলেও তিনি কারাগারে বন্দি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টা নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি যদি বাদল ফরাজিকে নির্দোষ ঘোষণা করেন, তাহলেই তিনি মুক্তি পাবেন। তাহলে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে যারা দুঃসহ জীবন যাপন করছে, তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করে ফিরিয়ে আনতে হবে। পাচার ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ২০১২ সালে এসংক্রান্ত আইন হলেও সাত বছরেও ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যায়নি। তাই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এটা দ্রুত করা জরুরি।

আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান গিওরগি গিগাউরি বলেন, ‘কেন, কিভাবে পাচার হচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। সবাই মিলেই বাংলাদেশ থেকে এবং বিশ্ব থেকে মানবপাচার বন্ধ করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা